
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ব্যবসায়িক কাজে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার পর নিখোঁজ এক ব্যবসায়ীর মরদেহ তিন দিন পর জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে। নিহতের নাম হাসেম। তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুছরী এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তিন দিন আগে হাসেম ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। এরপর কৌশলে তাকে অপহরণ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে দক্ষিণ ফলিয়া পাড়ার নার্সারি এলাকার জঙ্গলে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নিখোঁজ হাসেমকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে নার্সারি এলাকার জঙ্গলের ভেতর একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এ ঘটনার সঙ্গে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র জড়িত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুছরী এলাকার চারজন গরু ব্যবসায়ী এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে।
তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে নিশ্চিতভাবে দোষী করা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাবাসী সীমান্তবর্তী ও ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ছৈয়দ হামজা জানান, হাসেমসহ দুই ব্যবসায়ী ক্যাম্পে গেলেও একজন ফিরে আসেন, তবে হাসেম নিখোঁজ হন। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর অপহরণকারীরা তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।