বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নানিয়ারচরে রেকর্ড ৭৭টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হলো রাধামোহন চাকমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ঈদগাঁওতে অভিবাসন বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত খাগড়াছড়িতে ৫০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুইজন কারাগারে প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতার আহ্বান, খাগড়াছড়িতে ‘প্রকৃতি’র মোড়ক উন্মোচন বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত আলীকদমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আবেদন লামায় ১১ মাস পর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক-প্রশাসনের সমন্বয়ে জনসেবা আরও কার্যকর হবে: ইউএনও মিশকাতুল তামান্না মহালছড়িতে একমাত্র A+ পাওয়া টুম্পা চাকমাকে উপজেলা প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা ও সহায়তা প্রদান কাপ্তাইয়ে বিশ্ব হাতি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার স্তূপ, ব্যাহত নৌযান চলাচল মহালছড়িতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও করণীয় নিয়ে অংশীজন সভা শান্তি-সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার প্রত্যয়ে লক্ষীছড়ি জোনের ১০ বছর সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে মানিকছড়িতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটিতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের মৃত্যু

লামায়–আলীকদমে তামাক চাষের আগ্রাসন

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামায় ও আলীকদম উপজেলায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তামাক চাষের আগ্রাসন। সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ঝিরি, খাল ও নদীর পাড় দখল করে নির্বিঘ্নে পরিচালিত এই তামাক চাষ দেশের প্রচলিত পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হলেও কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী, সরকারি বনভূমিতে অনুমতি ব্যতীত কোনো প্রকার কৃষিকাজ, বৃক্ষ নিধন কিংবা ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ লামায়ও আলীকদমে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে বনভূমি উজাড় করে তামাক চাষ করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের শামিল।তামাক চাষে ব্যবহৃত অতিমাত্রার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে নদী, খাল ও ঝিরিতে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জলজ প্রাণী বিশেষত মাছের ব্যাপক প্রতিনিয়ত মৃত্যু ঘটনা ঘটছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দুই উপজেলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, পরিবেশের ক্ষতি সাধনকারী যেকোনো কার্যক্রম দণ্ডনীয় অপরাধ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বাস্তবে এসব আইন প্রয়োগে চরম শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী, কোনো জলাশয়ে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর পদার্থ নিক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তামাক ক্ষেতে ব্যবহৃত কীটনাশক যখন ঝিরি ও খালে মিশে মাছ নিধনের কারণ হচ্ছে, তখন তা এই আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। তামাক চাষের জন্য পাহাড় কেটে জমি সমতল করায় ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। অপরদিকে, বিশুদ্ধ পানির উৎস ধ্বংস হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, তামাক চাষ স্বল্পমেয়াদি মুনাফা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ভূমির উর্বরতা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস করে।লামায়-আলীকদমে দুই উপজেলায় তামাক চাষের এই অবাধ আগ্রাসন রোধে অবিলম্বে বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত আইনানুগ অভিযান জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ তামাক চাষের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে আইন ও সংবিধানের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে বলে জানান স্থানীয়রা। পরিবেশ রক্ষা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়।এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পাহাড়, বন ও জলাধার হারিয়ে যাবে অপরিবর্তনীয় ক্ষতির পথে এমন অভিযোগ তোলে স্থানীয়দের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *