
হাবীবুল্লাহ মিসবাহ, রাজস্থলী
রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম খিয়াং পাড়ার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট দূর হতে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালের বিশেষ উদ্যোগে ওই এলাকার দুর্গম কয়েকটি পাড়ায় দ্রুত সুপেয় পানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বড় কুইক্যাছড়ি পাড়া, ছোট কুইক্যা, ধনুছড়ি ও শীলছড়ি পাড়ার খিয়াং সম্প্রদায়ের মানুষ বছরের পর বছর ধরে তীব্র সুপেয় পানির সংকটে ভুগছিলেন। বিষয়টি রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনির নজরে আসলে তিনি তা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের কাছে উত্থাপন করেন।
জনসাধারণের এই দুর্ভোগের কথা শুনে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম এবং জেলা পরিষদ সদস্য প্রতীম চন্দ্র দেওয়ান পানির কল স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল মহোদয় বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। পাহাড়ের ঝিরি থেকে সোলারচালিত মোটরের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে স্থানীয় স্কুলের ছাদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে, যার ফলে এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার সরাসরি সুপেয় পানির সুবিধা পাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন পর সুপেয় পানির এই স্থায়ী সমাধান পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত খিয়াং সম্প্রদায়ের মানুষ। বিএনপি সরকারের এই দ্রুত ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এবং রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খিয়াং সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা।