
প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।
বান্দরবানের থানচি উপজেলায় আটক দুই বম ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ঢাকা মহানগর শাখা।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা চমখুপ বম ও জৌথোয়াং বমের মুক্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি, গ্রেফতার অভিযান এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এবং দপ্তর সম্পাদক অংসালা মারমার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য রূপসী চাকমা। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা নগর শাখার সভাপতি তৈয়ব ইসলাম, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের ঢাকা নগর সংগঠক রাকিব উদ্দিন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হক এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ঢাকা নগর শাখার সংগঠক নাইম উদ্দিন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গ্রেফতার, ধরপাকড় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে। তাঁরা দাবি করেন, গত ২৪ জুন খাগড়াছড়ির রামগড়ে গুলিতে ইউপিডিএফের সদস্য ববিন ত্রিপুরা নিহত হন। এছাড়া জুন মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ২৩ জন পাহাড়িকে গ্রেফতার, দুজনকে শারীরিক নির্যাতন এবং একজনের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনাও উল্লেখ করেন।
বক্তাদের দাবি, ২০২২ সাল থেকে বান্দরবানে কুকি-চিন দমনের নামে পরিচালিত অভিযানে বম জনগোষ্ঠীর বহু নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৮০ জন বম ব্যক্তি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২ জুলাই থানচি উপজেলার থাংদোয়াই পাড়া থেকে চমখুপ বম (৬৫) এবং সেরকর পাড়া থেকে জৌথোয়াং বমকে (৫৫) আটক করা হয়। বক্তাদের দাবি, জৌথোয়াং বমকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের অভিযোগে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও চমখুপ বমের অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সমাবেশ থেকে বক্তারা চমখুপ বম ও জৌথোয়াং বমসহ আটক বম ব্যক্তিদের মুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সেনাবাহিনী বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।