
বশির আহাম্মদ, বান্দরবান প্রতিনিধি।।
টানা অতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাহিনীটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার খানসামা পাড়ায় বিজিবির বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তরের উদ্যোগে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় খানসামা পাড়া ও বিজিবি পাড়া এলাকার ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেন বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বিএসপি।
বিজিবি জানায়, বান্দরবান সেক্টরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বন্যাকবলিত খানসামা ও বিজিবি পাড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২৫০ জনের বেশি মানুষকে তিন বেলা খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যানিটেশন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে বন্যার পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। তাদের জন্য শুকনো খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি।
ত্রাণ বিতরণ শেষে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বন্যাকবলিত এলাকার কয়েকটি বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, বন্যার শুরু থেকেই দুর্গত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগব্যাধির ঝুঁকি বিবেচনায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনারও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বলিপাড়া, আলীকদম ও রুমা বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির দায়িত্বের অংশ।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিম রানা, সুবেদার মো. হাফিজ, নায়েক সুবেদার আফতাবুজ্জামানসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্যরা।
এদিকে বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মেজর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা, ভূমিধস ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয় প্রদান, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি ভবিষ্যতেও দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।