
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবান সদর হাসপাতালে ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও সরেজমিনে সেই মালামালের উল্লেখযোগ্য অংশ গণমাধ্যমকর্মীদের দেখাতে না পারায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ব্যান্ডেজ, লিনেন ও আসবাবপত্রসহ ছয়টি খাতে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এএসএম নামের একটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি খাতে এবং আলমগীর নামের আরেক ঠিকাদার একটি খাতে কার্যাদেশ পান।
গত ১৩ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে মালামাল সরবরাহ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের অর্থায়নে ওষুধ ক্রয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩১ লাখ টাকা, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা, কেমিক্যাল ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ব্যান্ডেজ ক্রয়ে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং লিনেন ও ফার্নিচার খাতে পৃথকভাবে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. সানাই ত্রিপুরা। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. দেবরাজ বৈদ্য, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. উথেন ক্য, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অতনু চৌধুরী, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ এবং গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফি থেকে আদায় হওয়া অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম রয়েছে। তিনি প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে নতুন টেন্ডারের আওতায় সরবরাহ করা কিছু ফার্নিচার ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির মান নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, জুন ক্লোজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুভাষ দাশ টানা সাত দিন অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। ছুটির আবেদন করলেও অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা প্রশাসনিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী বলেন, টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদাররা মালামাল সরবরাহ করছেন এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মালামাল গ্রহণ করা হয়েছে। সরবরাহকৃত ওষুধ রোগীদের মধ্যে বিতরণও করা হচ্ছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ দাবির পরও সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ওই পরিমাণ মালামাল প্রদর্শন করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ সীমিত। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ও দরপত্র যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টেন্ডার মূল্যায়নে ছয় সদস্যের একটি কমিটি কাজ করেছে এবং তিনি ওই কমিটির সদস্য নন।
সিভিল সার্জনের দাবি, একটি পক্ষ তাদের পছন্দের ঠিকাদার কার্যাদেশ না পাওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করছে। তিনি বলেন, “সব মালামাল যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সাজিয়ে শিগগিরই গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হবে।”