মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বান্দরবানে টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা নানিয়ারচরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ থানচিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন পানছড়িতে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ পালিত, র‌্যালি, আলোচনা সভা ও ঋণ-চারা বিতরণ হারিয়ে যাওয়া ৩১ টি মোবাইল ও টাকা ফিরিয়ে মুখে হাসি ফোটালো ১৮ এপিবিএন, রাঙ্গামাটি বিলাইছড়িতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত: র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিলাইছড়িতে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সৌজন্য সাক্ষাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের আয়কর মওকুফ ও ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালুর দাবি বিলাইছড়িতে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তিন দিন পর মুক্ত ৬ রোহিঙ্গা শ্রমিক, নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহরণ নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বান্দরবানের লামার কন্যা সৈয়দা তামান্না হোরায়রার কৃতিত্ব, ময়মনসিংহ সদরে প্রায় ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় খাগড়াছড়ির পানছড়িতে গুলিতে নিহত ৩, ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রাজস্থলীতে ১ম জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উদযাপন দীঘিনালায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা দীঘিনালায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত: র‍্যালি, আলোচনা সভা, ঋণ ও চারা বিতরণ খরিপ-২ মৌসুমে গুইমারায় কৃষি প্রণোদনায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, ২৩০০ চারা বিতরণ

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী ব্রজনাথ রোয়াজা আর নেই

Reporter Name

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও গীতিকার শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজা আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সোমবার (৬ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৩টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার দীঘিনালা সড়কস্থ ধর্মঘর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য (দাহক্রিয়া) সম্পন্ন হবে।

শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজা ১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ২৪৬ নম্বর ছোট পানছড়ি মৌজায় এক সম্ভ্রান্ত ত্রিপুরা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন স্বর্গীয় রেবতী রঞ্জন রোয়াজা এবং মাতা স্বর্গীয় অঞ্জলি ত্রিপুরা।

শিক্ষাজীবনে তিনি এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক সম্পন্ন করার পর শিক্ষকতার পাশাপাশি বিএড ও এমএড ডিগ্রি অর্জন করেন। সমাজের শিক্ষাবিস্তারকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে সরকারি চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি শিক্ষকতা পেশাকেই বেছে নেন।

১৯৬৯ সালে মুনিগ্রাম জুনিয়র হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে মহালছড়ি সিঙ্গিনালা হাই স্কুল, খুলারামপাড়া জুনিয়র হাই স্কুল, পুজগাংমুখ হাই স্কুল, লোগাং জুনিয়র হাই স্কুল, পানখাইয়াপাড়া হাই স্কুল, নানিয়ারচর হাই স্কুল ও গুইমারা হাই স্কুলসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর কিছু সময় ইউএনডিপির কনসালট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, নাটক ও গান রচনায় তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। তাঁর রচিত গবেষণাধর্মী ও স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের মধ্যে স্কুল পাঠ্যবই (ব্যাকরণ), হারানো দিনগুলো এবং স্মৃতিকথা উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে তিনি সাহিত্যাঙ্গনেও বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।

সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাঙ্কিকায় (১৯৮৭), গল্পে (১৯৮৯) এবং ছোটগল্পে একুশে সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া স্কাউট আন্দোলনে অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে সম্মাননা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ১৯৯৩, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত হন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সদালাপী, ন্যায়পরায়ণ, মিতভাষী ও শিক্ষানুরাগী। তাঁর সহধর্মিণী ইরানিকা ত্রিপুরাও একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। চার সন্তানসহ একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবার গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজার মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *