বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহী: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ- পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আশিকা ডেভেলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েটস এর উদ্যোগে প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহালছড়ি উপজেলায় জাবারং কল্যান সমিতির আয়োজনে প্রকল্প অবহিতকরণ ও মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়িতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও র‌্যালী ১১টি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি নয়ন চৌধুরী ৩৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার গুইমারায় সিন্দুকছড়ি জোনের মাসিক নিরাপত্তা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে শতবর্ষী মেরাখোলা কবরস্থান বিলাইছড়িতে বিনামূল্যে ৮ হাজার ৪০০ চারা বিতরণ কাপ্তাইয়ে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল ও পোশাক সামগ্রী বিতরণ ঘর নেই, স্বজন নেই—জরাজীর্ণ যাত্রী ছাউনিতে ৭৫ বছরের অসুস্থ জহুরা পেরাছড়ায় কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভা পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে রাজস্থলীর ‘বড় ঝর্ণা’ খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে বেকারদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ নতুন দায়িত্ব পেয়েই দীঘিনালায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্যবৃন্দরা ঈদগাঁওতে মাদকের সরঞ্জামসহ ১২ মাদকসেবী আটক

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী ব্রজনাথ রোয়াজা আর নেই

Reporter Name

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও গীতিকার শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজা আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সোমবার (৬ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৩টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার দীঘিনালা সড়কস্থ ধর্মঘর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য (দাহক্রিয়া) সম্পন্ন হবে।

শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজা ১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ২৪৬ নম্বর ছোট পানছড়ি মৌজায় এক সম্ভ্রান্ত ত্রিপুরা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন স্বর্গীয় রেবতী রঞ্জন রোয়াজা এবং মাতা স্বর্গীয় অঞ্জলি ত্রিপুরা।

শিক্ষাজীবনে তিনি এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক সম্পন্ন করার পর শিক্ষকতার পাশাপাশি বিএড ও এমএড ডিগ্রি অর্জন করেন। সমাজের শিক্ষাবিস্তারকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে সরকারি চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি শিক্ষকতা পেশাকেই বেছে নেন।

১৯৬৯ সালে মুনিগ্রাম জুনিয়র হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে মহালছড়ি সিঙ্গিনালা হাই স্কুল, খুলারামপাড়া জুনিয়র হাই স্কুল, পুজগাংমুখ হাই স্কুল, লোগাং জুনিয়র হাই স্কুল, পানখাইয়াপাড়া হাই স্কুল, নানিয়ারচর হাই স্কুল ও গুইমারা হাই স্কুলসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর কিছু সময় ইউএনডিপির কনসালট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, নাটক ও গান রচনায় তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। তাঁর রচিত গবেষণাধর্মী ও স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের মধ্যে স্কুল পাঠ্যবই (ব্যাকরণ), হারানো দিনগুলো এবং স্মৃতিকথা উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে তিনি সাহিত্যাঙ্গনেও বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।

সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাঙ্কিকায় (১৯৮৭), গল্পে (১৯৮৯) এবং ছোটগল্পে একুশে সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া স্কাউট আন্দোলনে অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে সম্মাননা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ১৯৯৩, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত হন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সদালাপী, ন্যায়পরায়ণ, মিতভাষী ও শিক্ষানুরাগী। তাঁর সহধর্মিণী ইরানিকা ত্রিপুরাও একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। চার সন্তানসহ একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবার গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজার মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *