
মো. আব্দুজ জাহের, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার একটি পাবলিক টয়লেটের বর্জ্য পানি সরাসরি মসজিদের সামনের প্রধান সড়কে প্রবাহিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও মুসল্লিদের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি ধর্মীয় পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি বড় অংশজুড়ে কালচে রঙের দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি পাবলিক টয়লেট থেকে নির্গত মানববর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য পানি সড়কে প্রবাহিত হওয়ায় এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, দুর্গন্ধের কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেককে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের দোকানপাট ও বসতবাড়ির বাসিন্দারাও নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দূষিত পানি জমে রয়েছে চৌমুহনী সদর মসজিদের সামনে। প্রতিদিন শত শত মুসল্লি এ পথ ব্যবহার করে মসজিদে যাতায়াত করেন। ফলে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তারা বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন।
চৌমুহনী সদর মসজিদের খাদেম আবুল কালাম বলেন, “পৌরসভার দায়িত্ব শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। কিন্তু মসজিদের সামনে এভাবে পাবলিক টয়লেটের বর্জ্য পানি প্রবাহিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।”
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সড়কে জমে থাকা দূষিত পানি থেকে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীকে ওই পানি পান করতে দেখা গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন বাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জনদুর্ভোগের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান পৌর প্রশাসক আমেনা মারজানের দৃষ্টিগোচর করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পাবলিক টয়লেটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবিও জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বর্জ্য নিষ্কাশনের কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়ক পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্তকরণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।