
বশির আহমেদ, বান্দরবান প্রতিনিধি।।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে আরও তিন মন্ত্রীর সঙ্গে শপথ নেন তিনি। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে বান্দরবানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, শান্তি-সম্প্রীতি ও সব জনগোষ্ঠীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাচিং প্রু জেরী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৮৬ সালে বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৯ সালে বান্দরবান স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী বোমাং সার্কেলের ১৫তম বোমাং রাজা অংশৈ প্রু চৌধুরীর ছেলে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় তাঁর বাবা অংশৈ প্রু চৌধুরী প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। পরবর্তী সময়ে নানা বিতর্কের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করলে মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর পদটি শূন্য ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার পর সাচিং প্রু জেরীকে এ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।
বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. জাবেদ রেজা বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা সাচিং প্রু জেরী মন্ত্রী হওয়ার যোগ্য দাবিদার। তাঁর মন্ত্রী হওয়া বিএনপিসহ বান্দরবানবাসীর জন্য আনন্দের।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন মন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি সব জাতিগোষ্ঠীকে সমান দৃষ্টিতে দেখে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন, যাতে উন্নয়নের সুফল থেকে কেউ বঞ্চিত না হয়।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাচিং প্রু জেরীর মাধ্যমে বান্দরবানের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতেও তিনি ভূমিকা রাখবেন।