
গত ৪ জুলাই ২০২৬ শনিবার রাঙ্গামাটি স্থানীয় অনলাইন পত্রিকার বাহিরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন পোর্টালে ভূমিদস্যু প্রকাশ কুসুম বড়ুয়াকে ডলুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলীর দাবি শিরোনামে সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
সংবাদে প্রতিবেদকের ভাস্যঃ ডলুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদক সংবাদে লিখেছেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার পর আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্কুলের জায়গার পাহাড় কেটে মাটি বিক্রিয়, স্কুলের উন্নয়নে কাজের ঠিকাদারী, নিজের পছন্দের লোকদের আওয়ামীলীগের লোকজন দিয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠন, স্কুলের মূল গেইটের সামনে নিজস্ব দোকান নির্মাণ, মাসের পর মাস ধরে স্কুলে ক্লাশ না করে নিজ খেলা খুশিতে স্কুল পরিচালনা করার কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবাদঃ মূলতঃ প্রতিবেদক কোন একটি পক্ষের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাবিত হয়ে এবং আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমার বিরুদ্ধে এমন সংবাদ পরিবেশন করেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদারী, ম্যানেজিং কমিটি গঠন, স্কুলে ক্লাশ না করা, এসবের আমার কোন সম্পর্ক নেই। প্রতিবেদক সামান্য একজন স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন, সে লেখার বা অভিযোগের কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে একজন পাঠক হিসেবে বিচার বিশ্লেষন করা আপনাদের দায়িত্ব। প্রতিবেদক স্কুলের মূল গেইটের সামনে দোকান নির্মাণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি হয়তো জানেন না, যে জায়গাটির উপর স্কুল দাড়িয়ে আছে, তা মূলতঃ আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি। যা পরবর্তীতে আমার বাবা স্কুলকে দান করে গেছেন। প্রতিবেদক মাসের পর মাস স্কুলে অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন যা অত্যন্ত হাস্যকর। যেখানে একটি ভুল জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ বার পরিদর্শণ করা হয়, সেখানে মাসের পর মাস স্কুলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি আরো হাস্যকর।
লেখার ২য় প্যারায় প্রতিবেদক আমাকে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রচার প্রসারের কথা বলেছেন। প্রতিবেদকের কাছে আমার প্রশ্ন, একজন স্কুল শিক্ষক কি কোন রাজনৈতিক দলের নেতা? তার পক্ষে কি কোন রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্ব দেয়া কি সম্ভব? প্রতিবেদক আওয়ামীলীগ নেতা অংসুইপ্রু চৌধুরীর নেইম ফলকের কথা উল্লে করেছেন। প্রতিবেদক কি জানেন না, অংসুইপ্রু চৌধুরী তৎসময়ে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর স্কুলের যে ভবন নির্মাণ হয়েছে তা মূলতঃ জেলা পরিষদের অর্থায়নেই নির্মিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ভবনের কাজ শেষ হওয়ার পর স্কুল উদ্বোধনের আগে ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের নেইম ফলক স্থাপন করা হয়ে থাকে। এটি বাংলাদেশের সব উন্নয়ন প্রকল্পেই হয়ে থাকে। প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন, স্কুল ভবন নির্মাণ করলো জেলা পরিষদ, কাজ করলো ঠিকাদার এখানে স্কুল প্রধান শিক্ষকের কাজ কি? প্রতিবেদক আমাকে রাউজানের সাবেক সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরীর ডান হাত, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, চুয়েট ছাত্রলীগ নেতার সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেছেন। তার কাছে আমার প্রশ্ন, রাউজান ও রাঙ্গুনীয়ার এতো বাঘা বাঘা নেতা থাকতে কাউখালীর দূর্গম পাহাড়ের একজন সামান্য স্কুল শিক্ষক এতো বড় বড় নেতার ডান হাত হয় কিভাবে? তাছাড়া বেতবুনিয়াতে আওয়ামীলীগের এতো নেতা থাকতে একজন স্কুলের শিক্ষকের বাসায় কোন দুঃখে গোপন বৈঠক করতে যাবে?
প্রতিবেদক সংবাদে উল্লেখ করেছেন, আমি একজন ভূমিদস্যু, উগ্র সম্প্রদায়ের লোক, মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়ন কাজে বাঁধা দিয়েছে। প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন, আমি কার ভূমি দখল করেছি? তার নাম উল্লেখ করেননি কেন? কার সাথে উগ্রতা দেখিয়েছি তার বক্তব্য কই? যে মাদ্রাসা বা মসজিদের উন্নয়ন কাজে বাঁধা দিয়েছি সে মসজিদ বা মাদ্রাসা সংশ্লিদের বক্তব্যই বা কই?। প্রতিবেদক উল্লেখ করেছেন আমি পাহাড় কেটে ইটভাটায় বিক্রি করি। কিন্তু কার পাহাড় কেটেছি তাও উল্লেখ করেননি। আর যদি পাহাড় কেটেও থাকি তাহলে পরিবেশ অধিপ্তর বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না কেন? যেখানে প্রতিদিন পাহাড় কাটার দায়ে কাউখালীর অনেক বাঘা বাঘা নেতার জেল জরিমানা হয় সেখানে একজন স্কুল শিক্ষক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া বাদ গেলাম কেন? প্রতিবেদক বন বিভাগের গাছ কেটে ইটভাটায় বিক্রির কথা বলেছেন। প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন বন বিভাগের কোন স্থান থেকে গাছ কেটেছি তা উল্লেখ করেননি বা কোন ইটভাটায় বিক্রি করেছি তাও উল্লেখ করেননি। এমনকি সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের কোন কর্মকর্তা বা এলাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা কারো কোন বক্তব্য নাই। এমনকি প্রতিবেদক তার লেখায় স্কুলের নামটিও শুদ্ধ করে লিখতে পারেনি।একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে কোন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের নীতিমালা অনুযায়ী অভিযোগকারী বক্তব্য থাকার কথা, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার বক্তব্য থাকার কথা। কিন্তু পুরো সংবাদের কোথাও কোন অভিযোগকারীর বক্তব্য নাই। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার বক্তব্যও নাই। মূলতঃ আমাকে সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানি করার জন্য এমন আজগবী, অসত্য ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। আমি এসব কল্পনাপ্রসূত ও প্রতিহিংসামূলক সংবাদের তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া
প্রধান শিক্ষক
ডলুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
কাউখালী, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।