শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাজস্থলীতে উপজেলা বিএনপির আনন্দ মিছিল প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বান্দরবানে শুরু হলো সম্প্রীতির ফুটবল টুর্ণামেন্ট লামায় বসুন্ধরা শুভ সংঘের উদ্যোগে ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও ফলদ চারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী ছোটগাছবানে গীতা শিক্ষালয়ের উদ্বোধন, এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা কক্সবাজার খেলোয়াড় সমিতি ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে রামু উপজেলা দলের অনুশীলন রামুতে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতায় বাপা’র বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ রাজস্থলীতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মাটিরাঙ্গায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হলেন- রাজস্থলীর তিমথী খিয়াং ও প্রেমা তালুকদার যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে ঈদগাঁওতে প্রশাসনের অভিযান বাঘাইছড়ির করেঙ্গাতলী এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে হেডম্যান কারবারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত মাম্যাচিংকে চেয়ারম্যান করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন বিলাইছড়িতে তীব্র পুষ্টিহীন শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করছে আশিকার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন; চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, সদস্য ১৪ জন

রামুতে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতায় বাপা’র বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

Reporter Name

রামু প্রতিনিধি

প্রকৃতিকে বাঁচাতে, বাসযোগ্য সমাজ গড়তে গাছ লাগাতে হবে। সবুজে ঘেরা বাসযোগ্য সুন্দর বসবাসের জন্য বৃক্ষরোপনের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অক্সিজেন সরবরাহ এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নেয় এবং মানুষ ও পশুপাখি বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন ছড়ায়। গাছ ছায়া দেয় এবং গরম কম রাখতে সাহায্য করে। বাতাস ও পরিবেশের বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালি শুষে নিয়ে বাতাস পরিষ্কার রাখে। গাছের শেকড় মাটি শক্ত করে আটকে রাখে, ফলে বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে যায় না। মানুষ, পশুপাখি ফলমূল ও খাবার পায়। পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয় হলো গাছ। ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরিতে কাঠ এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল পাওয়ার জন্য গাছে প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। তাই আমাদের গাছ লাগাতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে অন্তত একটি করে হলেও গাছ লাগানোর শপথ নিতে হবে।
রামুতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচীর সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপ) নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি হেলফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রামু উপজেলার সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম। এ সময় বাপা নেতৃবৃন্দ বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীদের একটি করে চারা বিতরণ করেন। বিতরণকৃত গাছের মধ্যে কাঠবাদাম, পেয়ারা, জাম্বুরা, কতবেল, মেহগনি, কড়ই, গামারি, রেইনট্রি, অর্জুন, হরিতকি, বহেরা, আমলকি, তেতুঁল, মিঞ্জিরি, কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, তেলসুর, দেবদারু, জাম, কাঠাঁল, জলপাই, ডালিম গাছের চারা সহ ২৩ প্রকারে ফলদ, বনজ ও ঔষদি গাছের চারা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শিক্ষার্থী উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, উত্তর মিঠাছড়ি হেলফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্পনা রাণি শর্মা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রামু উপজেলার সহসভাপতি প্রকৌশলী তরুণ বড়ুয়া, রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ, রামু প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ।
গাছ লাগাও প্রকৃতি বাঁচাও’, ‘পরিবেশ রক্ষা করো সবুজ বাংলাদেশ গড়ো’ শ্লোগানে বুধবার দিনব্যাপী কর্মসূচীর মাধ্যমে উত্তর মিঠাছড়ি হেলফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামু সাতঘরিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মিঠাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রা.) ইনস্টিটিউট, উত্তর মিঠাছড়ি পূর্ব পাড়া ঘিলামুরা মসজিদ ও কবরস্থান, হাসপাতাল পাড়া ফকিরামুরা কবরস্থান এবং চা বাগান পাহাড়িয়াপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন সড়কের দুইপাশে বৃক্ষরোপন ও চারা বিতরণ করে দুইদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচী সম্পন্ন করা হয়।
সমাপনী দিনে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সাতঘরিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পী বড়ুয়া, হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রা.) ইনস্টিটিউটের সুপার মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব, উত্তর মিঠাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেদারুল আলম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রামু উপজেলা শাখার সহ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সহ তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রামু উপজেলার সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম জানান, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রামু উপজেলার ১৫ টি প্রতিষ্ঠানে বাপা’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। একটি গাছ শুধু আমাদের ফলই দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার পাওয়া চারাটিকে সন্তানের মতো যত্ন নিতে আহ্বান জানিয়ে, বৃক্ষরোপনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা শিক্ষার্থীদের অবহিত করেছি। তিনি আরও জানান, গত ১১ আগস্ট কর্মসূচির প্রথম দিনে আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারকুল হযরত জঙলীপীর ইসলামিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা, উমখালী হাফেজিয়া তাজবীদুল কোরআন মাদ্রাসা, পশ্চিম মনিরঝিল দরগাহপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রামু রামকোট তীর্থধাম প্রাঙনে বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটর মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা করা হয়।
প্রকৌশলী তরুন বড়ুয়া বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বৃক্ষরোপণের উপকারিতা ও বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রামু উপজেলা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রামু উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সায়েদ জুয়েল জানান, রামুতে বাপা’র উদ্যোগে মাধ্যমিক স্কুল-মাদ্রাসা, হেফজখানা, মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থানে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *