
মো. হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রথমবারের মতো আখ চাষ করেছেন কৃষক বদন কুমার চাকমা। উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের তারাবুনিয়া এলাকায় প্রায় দেড় কানি জমিতে ‘রংবিলাস’ জাতের আখের বাগান করেছেন তিনি। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদিত আখ বিক্রি করে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার বেশি আয়ের আশা করছেন এই কৃষক।
বদন কুমার জানান, আখের বাগান তৈরি ও চাষাবাদে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর বড় একটি অংশ ধার করে জোগাড় করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে আখ চাষের প্রচলন কম হলেও কৃষিকাজের পাশাপাশি নতুন ফসল হিসেবে এ চাষে উদ্যোগ নেন তিনি।
তিনি বলেন, শুরুতে অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও নিজের উদ্যোগে আখ চাষ অব্যাহত রেখেছেন। এখন বাগানে ভালো ফলন হয়েছে। উৎপাদিত আখ ঠিকমতো বিক্রি করতে পারলে বিনিয়োগের পাশাপাশি লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তিনি।
তবে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বদন কুমার। তাঁর ভাষ্য, পর্যাপ্ত সার ও কৃষি উপকরণ ব্যবহার করতে না পারায় উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তা পেলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, পার্বত্য এলাকায় আখের চাষ তুলনামূলক কম। বদন কুমার চাকমা উদ্যোগ নিয়ে আখ চাষ করেছেন। তাঁর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি কৃষি অফিস থেকে দেখা হবে। ভবিষ্যতে সরকারি উদ্যোগে তাঁকে আখের চারা ও সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পার্বত্য এলাকায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ফসলের চাষ বাড়ানো গেলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। উন্নত জাতের চারা, কৃষি উপকরণ ও কারিগরি পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে আখ চাষের পরিধিও বাড়তে পারে।