শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজস্থলীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কুপিয়ে জখম; আহত ৩ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গণসংবর্ধনা আলীকদমে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ পাহাড়ের দুর্গমে আলোর দিশারী ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং’: নানা আয়োজনে ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম ইন্দ্রসিংপাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্পেইন থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক এবাকাস প্রতিযোগিতায় সিলভার মেডেল অর্জন ইউএনও মো. মঈন উদ্দিনের কন্যা মানহা কর্মজীবী নারীদের মানসিক শান্তি ও সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার ওপর জোর দিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বাইশারীতে কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ৫৭ রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা দীঘিনালায় অতিরিক্ত মজুদের অভিযোগে ২১ টন সার জব্দ বাল্যবিয়ের শিকার থেকে নির্যাতিত নারী-শিশুর পাশে সাজেদা রাজস্থলীতে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যেতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রী কাপ্তাইয়ে বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকা জব্দ, আটক ২ খাগড়াছড়িতে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবার পেল নগদ আর্থিক সহায়তা খাগড়াছড়িতে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে জেলা অ্যাডভোকেসি সভা

পাহাড়ের দুর্গমে আলোর দিশারী ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং’: নানা আয়োজনে ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

Reporter Name

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি।।
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে যেখানে শিক্ষার আলো পৌঁছাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়, সেখানেই পরম মমতায় জ্ঞানের মশাল জ্বেলে চলেছে ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরী’। খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম বড়থলি এলাকায় অবস্থিত এ সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের সাথে পথচলার ছয় বছর পূর্ণ করেছে। ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনব্যাপী গ্রহণ করা হয় নানা মানবিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি।

​শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে বড়থলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করা হয়। কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দিনভর ছিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ, কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা।

​প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরীর সভাপতি তানিমং মারমা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিশু আইসিইউ বেবি কেয়ার হাসপাতালের সাবেক মেডিকেল অফিসার ডা. রোনেক্স চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লাইব্রেরীর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অংসাচিং মারমা।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. রোনেক্স চৌধুরী বলেন, “পাহাড়ের এমন দুর্গম অঞ্চলে লাইব্রেরী কেন্দ্রিক সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সমাজকে বদলে দেওয়া সম্ভব, কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরী সেই পথেই হেঁটে চলেছে।”

​অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাঠাগার সম্পাদক থৈঅংপ্রু মারমা, বড়থলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উসাগ্য মারমা, বিএমসি খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অংগ্য মারমা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ সংগঠক মংসানু মারমা, এইচএনসি অ্যান্ড ইউএসএনআই ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত তঞ্চগ্যা এবং সামাজিক সংগঠক আহ্লুরা মারমা।

​অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক অংচিং মারমা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ।

​অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। একই সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা-কলমসহ নানা শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা।

​আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীরা প্রায়শই অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটানো, স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২শত জনকে চিকিৎসা সেবা, গাছের চারা বিতরণ ও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা।
​এ ধরণের জনকল্যাণমূলক আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত অভিভাবক ও এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁরা মনে করেন, বই পড়ার চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই লাইব্রেরীটি আগামী দিনে পাহাড়ে আলোর বার্তা পৌঁছে দিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *