
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি মাতামুহুরী কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
বুধবার (১৭ জুন) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি মাতামুহুরী কলেজ দীর্ঘদিন ধরে লামা ও পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এ কলেজে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
কলেজটিতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান চালু রয়েছে। পাশাপাশি স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও এখানে অধ্যয়ন করছে। তবে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু না হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য জেলা শহর কিংবা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভৌগোলিক দূরত্ব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি মাতামুহুরী কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হলে লামা, আলীকদমসহ আশপাশের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক এম রুহুল আমিন বলেন, “সরকারি মাতামুহুরী কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা সময়ের দাবি। এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে এখানে অনার্স ও মাস্টার্স চালু হলে প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থী উপকৃত হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “লামা ও আলীকদম উপজেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় এ কলেজকে উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা প্রয়োজন। সরকারের সদয় উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো মানসম্মত শিক্ষার বিস্তার। সরকারি মাতামুহুরী কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হলে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে, যা পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে কলেজটিতে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।