
বশির আহমেদ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা ইউনিট-২-এর আওতাধীন প্রকল্পে গ্রামের ৭ জন গ্রাম লিডারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, অবৈধ অর্থ লেনদেন, ব্যবস্থাপনায় অসহযোগিতা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য এবং অসদাচরণের অভিযোগে চলতি জুলাই ২০২৬ থেকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া গ্রাম লিডাররা হলেন- কুহালং ইউনিয়ন -১-এর শুশীল ত্রিপুরা, কুহলং-২-এর সুকিত তংচগ্যা, কুহালং-৩-এর ক্যাসানু মারমা, রাজবিলা ইউনিয়ন -১- থুইচ মারমা, রাজবিলা-২- পাই সা থোয়াই মারমা, রাজবিলা-৪-এর হ্লাথোয়াই মারমা, রাজভিলা-৫-এর চুইনু মং মারমা এবং আরও একজন গ্রাম লিডার।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর তারা রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগের পর সংসদ সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে গ্রাম লিডারদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং কয়েকজন গ্রাম লিডারের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে এবং জেনারেল ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, গত ২৯ জুন বান্দরবান প্রেস ক্লাবে অব্যাহতি পাওয়া গ্রাম লিডাররা সংবাদ সম্মেলন করে পুনরায় একই অভিযোগ তুলে ধরেন।
তবে রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা ইউনিট কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও নিয়মিত কার্যক্রম বজায় রাখতে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে এবং প্রকল্প গ্রামের পুনর্বাসিত পরিবারগুলোরও এ বিষয়ে সম্মতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাবার বাগান ব্যবস্থা ইউনিট পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জেনারেল ম্যানেজার পিন্টু বিকাশ চাকমা বলেন- গ্রাম লিডারদের মেয়াদোত্তীর্ণ, দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রমাণসাপেক্ষে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর জেরে গত ২৯ জুন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু গ্রাম লিডার অফিসের নির্দেশনা অমান্য, রাবার উৎপাদনে অসহযোগিতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করছিলেন। প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখতে বিধি অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।