
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৫ নম্বর বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী বাজারসংলগ্ন ৩৩ কেবি বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে উত্তম ও অরুণ নামে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে কাজ শুরুর আগে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রধান (মেইন) বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করার জন্য আবেদন করা হয়। এরপর তারা খুঁটিতে উঠে কাজ শুরু করেন। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ প্রধান লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়ে গেলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক রাজস্ব কর্মকর্তা সুগত চাকমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী আখিনু চাকমা বলেন, মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের প্রধান বিদ্যুৎ লাইন দিঘীনালা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।
তিনি আরও বলেন, “উত্তম ও অরুণ কাজের জন্য প্রধান লাইন বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমি মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে করেঙ্গাতলী বাজারের লাইন বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করি। তবে আনুষ্ঠানিক ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার আগেই তারা খুঁটিতে উঠে কাজ শুরু করেন। এ সময় দিঘীনালা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের লাইন পুনরায় সচল করা হয়। এর ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।”
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্ব নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।