
মো. সাইফুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা।।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক মানবাধিকার কর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই ২০২৬ দুপুরে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মজিদ ভান্ডারী পাড়ায় মানবাধিকার কর্মী রহিমা আক্তার, তাঁর মা হনুফা বেগম এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে রহিমা আক্তার আহত হন। পরে তাঁকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিমা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর আপন মামা আমিন মিয়া, মামী ও মামাতো ভাইসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। তিনি দাবি করেন, পূর্ব থেকেই পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে একাধিকবার আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রহিমা আক্তারের মা হনুফা বেগম মাটিরাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আমিন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, ঘটনার আগে তাঁর স্ত্রী ছালেহা বেগমকে মারধর করা হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতের রায় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের খাগড়াছড়ি জেলা রিজিওন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আফছার হোসেন রনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. মাসুদ রানা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য সদস্য হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিবেকান্দন বলেন, “উভয় পক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ করেছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”