
মেহেরাজ হোসেন সুজন, নানিয়ারচর প্রতিনিধি
রাঙামাটির নানিয়ারচরে করল্যাছড়ি এলাকায় বড় ঝিড়ির ওপর নির্মিত একটি ছোট কালভার্টকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।
সম্প্রতি কয়েক মাস আগে উপজেলা পরিষদের এডিপির আওতায় এলজিইডি বাস্তবায়িত প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধান করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করল্যাছড়ি, মহালছড়ি, বাগছড়ি, উত্তর করল্যাছড়িসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ এই ঝিড়ি। বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোত বেড়ে গেলে পথটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল একটি টেকসই সেতু নির্মাণের; কিন্তু সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ছোট আকারের একটি কালভার্ট, যা বড় ঝিড়ির পানির প্রবাহ সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
স্থানীয় কার্বারী নিরোধ রঞ্জন কার্বারী অভিযোগ করে বলেন, “কালভার্ট নির্মাণ হলেও মানুষের দুর্ভোগ একটুও কমেনি। বরং পানি বাড়লেই আগের মতোই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এত বড় ঝিড়িতে ছোট কালভার্ট নির্মাণ করায় প্রকল্পটি কার্যত কোনো কাজে আসছে না।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কালভার্টের দুই পাশের মাটি পানির স্রোতে ধসে যাওয়ায় ওঠানামাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, “আমরা ছোট কালভার্ট চাইনি, চেয়েছিলাম একটি টেকসই সেতু। মানুষের কোনো উপকারে না এলে এই কালভার্টের প্রয়োজন নেই। এটি সরিয়ে আমাদের জন্য একটি বড় ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।”
তাদের দাবি, সেখানে একটি উপযুক্ত সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, কৃষকসহ হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে নানিয়ারচর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন করে সেখানে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হোক।