
ঈদগাঁও প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী মৌজায় জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ‘অবৈধ উপায়ে সৃজিত’ দুটি নামজারি খতিয়ান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এক পক্ষের ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে ঈদগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে খতিয়ান দুটি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অভিযোগকারী পক্ষের পরিবার। লিখিত বক্তব্যে বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই, অবৈধ দখল বা কার্যক্রম বন্ধ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খুটাখালী মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ১৫৩-এর অন্তর্ভুক্ত ৪৮ কড়া জমি নিয়ে গোল ছাবেরা চৌধুরানী ও অপর পক্ষের খানে আলম চৌধুরীসহ কয়েকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধে রোজিনা আক্তারও সংশ্লিষ্ট রয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলে আসছে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি ও অবৈধ উপায়ে দুটি নামজারি খতিয়ান সৃজন করা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ ওই দুটি খতিয়ান বাতিল করে এতে অন্তর্ভুক্ত জমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
তারা বলেন, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও ভূমি রেকর্ড নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো ধরনের অনিয়ম, জবরদখল বা বেআইনি কার্যক্রম হয়ে থাকলে তা বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী পক্ষ ভবিষ্যতে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে খানে আলম চৌধুরী ও রোজিনা আক্তারসহ অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা এবং জমির প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।