
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
চেয়ারম্যানসহ ১৫ সদস্য নিয়ে নতুন করে পুনর্গঠিত হয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। তবে নতুন পরিষদে জেলার তিন উপজেলা—লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি থেকে কোনো সদস্য না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পরিষদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি না থাকায়ও ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বান্দরবান জেলার সাত উপজেলার মধ্যে চার উপজেলা থেকে সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবান সদর উপজেলা থেকে চেয়ারম্যানসহ মোট ৯ জন, আলীকদম থেকে ২ জন, রোয়াংছড়ি থেকে ২ জন এবং রুমা থেকে ২ জন সদস্য রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলার লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি উপজেলা থেকে কোনো সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিশেষ করে জেলার জনবহুল উপজেলা লামা থেকে কোনো প্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশার কথা উঠে এসেছে।
বান্দরবান জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, লামা বান্দরবান জেলার অন্যতম জনবহুল উপজেলা। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যোগাযোগ, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে লামা উপজেলার একজন প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, লামা থেকে কোনো সদস্য না রাখার বিষয়টি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, নতুন জেলা পরিষদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি না থাকায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সম্প্রদায়ের নেতারা। বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রাজিব চন্দ্র ধর বলেন, জেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বসবাস করলেও জেলা পরিষদ পুনর্গঠনে তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাবেদ রেজা বলেন, লামা থেকে সারাবন তহুরার নাম সদস্য হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
লামার মতো জনবহুল উপজেলা থেকে কোনো সদস্য না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিষয়টি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। লামাবাসী অবহেলিত হবেন না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নতুন জেলা পরিষদে তিন উপজেলার কোনো প্রতিনিধি না থাকা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে জেলা পরিষদের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।