
দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙামাটি।।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাঙামাটি শহরের পৌর ট্রাক টার্মিনালে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক গরু ও ছাগল নিয়ে হাটে আসছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে প্রতিদিনই সরগরম হয়ে উঠছে হাট এলাকা।
হাট সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এবার রাঙামাটির বিভিন্ন পশুর হাটে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক গরু উঠেছে। এসব পশুর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় পশুর সরবরাহ বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে এখনো ক্রেতার উপস্থিতি তেমন বাড়েনি। বিক্রেতাদের আশা, ঈদের এক-দুই দিন আগে ক্রেতা বাড়বে এবং বেচাকেনাও জমে উঠবে।
পশু কিনতে আসা সাহাব উদ্দিন বলেন, বাজারে গরুর সরবরাহ বেশি থাকলেও বিক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দাম দাবি করছেন। মাঝারি আকারের গরুর দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেকেই দরদাম করেও শেষ পর্যন্ত পশু না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, গরু লালন-পালন, খাদ্য, চিকিৎসা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কম দামে পশু বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা জানান, মাইনীমুখ থেকে রাঙামাটি শহরের হাটে একটি গরু আনতে ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এর বাইরে পথে বিভিন্ন ধরনের চাঁদাও দিতে হয়। ফলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পশু কিনতে আসা মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, বেশি লাভের আশায় অনেক ব্যবসায়ী এখনো দাম কমাচ্ছেন না। পরিস্থিতি বুঝে হয়তো শেষ সময়ে তারা দাম কিছুটা কমাতে পারেন।
লংগদু থেকে আসা এক খামারি জানান, অনেক কষ্ট করে গরু লালন-পালন করে বাজারে এনেও প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “একটি গরুর পেছনে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছেন ৭২ হাজার টাকা। এভাবে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।”
হাটের ইজারাদাররা জানান, বুধবার পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক কোরবানির পশু হাটে আসতে পারে। এবার সরবরাহ বেশি হলেও ক্রেতা তুলনামূলক কম। এখন পর্যন্ত হাটে সর্বোচ্চ একটি গরু বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়।