
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত ভূমি ব্যবস্থাপনা, বিচারিক কাঠামো ও সামাজিক শাসন প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে খাগড়াছড়িতে ‘সিএইচটি নারী হেডম্যানুকার্বারী নেটওয়ার্ক’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে খাগড়াছড়ি সদরের পানখাইয়া পাড়ায় ‘আলো’র হলরুমে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় বক্তারা পাহাড়ের প্রথাগত আইন ও ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি সম্পর্কে তৃণমূলের নারী প্রতিনিধিদের আরও সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও নেটওয়ার্কের জেলা সভাপতি জয়া ত্রিপুরার সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কার্বারী অঞ্জলী ত্রিপুরা। সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক ও পানছড়ির পূজগাং মৌজার হেডম্যান ইখিন চৌধুরী। তিনি বলেন, পাহাড়ের নারী নেতৃত্বের বিকাশ এবং অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলাভিত্তিক এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।
সভায় ইউএনডিপি খাগড়াছড়ি জেলা ব্যবস্থাপক প্রিয়তর চাকমা সংগঠনের কার্যক্রম টেকসই করতে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল ডাটাবেজ থাকলে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সহজ হয় এবং সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
আলোচনায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০ুকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রথাগত প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও অবহিত হওয়ার ওপর জোর দেন।
সমাজকর্মী ধীমান খীসা বলেন, পাহাড়ি নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথাগত ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
‘আলো’র নির্বাহী পরিচালক অরুন কান্তি চাকমা বলেন, অনেক হেডম্যান ও কার্বারী প্রথাগত আইন ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত অবগত নন। এসব বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং কার্বারীদের আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের আর্থিক চাপও রয়েছে।
খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গীতিকা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে নারীদের ওপর সহিংসতার অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। এ ধরনের বিষয় সামনে আনা ও সহায়তার ক্ষেত্র তৈরিতে নেটওয়ার্কটি ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শান্তনা খীসা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সালিশি কার্যক্রমের নথি সংরক্ষণে নারী প্রতিনিধিদের গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক পূবালী ত্রিপুরা। সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী হেডম্যান ও কার্বারীরা অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন।