
বসন্তের আগেই পাহাড়ি জনপদ রঙিন হয়ে উঠেছে। সবুজ পাহাড়ের ঢালে ঢালে আমবাগানে থোকা থোকা মুকুল ঝুলে রয়েছে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা সোনালি মুকুলের সুবাসে মোহিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
মাটিরাঙ্গার তাইন্দং, তবলছড়ি, বড়নাল, গোমতী, আমতলী ও মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার আমবাগানগুলোতে মুকুল এসেছে কৃষকদের স্বপ্নের সঙ্গে। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে আমের ফলন গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আগাম কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় আমচাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে মুকুল এসেছে। দিনের তাপমাত্রা ও রাতের আবহাওয়া মুকুলের জন্য উপযোগী থাকায় ঝরে পড়ার হারও কম। ফলে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তাইন্দং এলাকার আমচাষি আবু বকর বলেন, “বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মুকুল অনেক বেশি এসেছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন ভালো হবে ইনশাআল্লাহ।”
মাটিরাঙ্গার আমবাগান মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, “আম চাষই পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। এবার মুকুলের পরিমাণ দেখে আশাবাদী। ফলন ভালো হলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজন মেটানো, ঋণ পরিশোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হবে।”
বেলছড়ি এলাকার আমচাষি মো. আব্দুল জলিল জানান, “আগের বছর ঝড় ও পোকার আক্রমণে ক্ষতি হয়েছিল। এবারের অনুকূল আবহাওয়া নতুন আশা জাগিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে বাগান রক্ষা করা সম্ভব।”
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেলিম রানা বলেন, “এবার পাহাড়ি এলাকায় মুকুল আসা সন্তোষজনক। নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করলে ফলন ও গুণমান উভয়ই ভালো হবে। উন্নত চারা, আধুনিক চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এখানকার আম দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”