
বাংলার চিরায়ত লোকজ ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ‘ঝাড়ুফুল’ এখন পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে সংগৃহীত এই প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সমতলের বড় বাজারেও সরবরাহ হচ্ছে।
পাহাড়ের ঢালু ভূমি, পাদদেশ ও ঝর্ণার আশপাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় ঝাড়ুফুল। প্রতি বছর শীত মৌসুমে পাহাড়জুড়ে এই ফুলের ব্যাপক সমারোহ দেখা যায়। মৌসুম এলেই স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ঝাড়ুফুল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করেন। বন থেকে সংগ্রহের পর ফুলগুলো কাঁচা কিংবা শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়।
বর্তমানে পাহাড়ের হাটগুলোতে ঝাড়ুফুলের বেচাকেনা বেশ জমজমাট। সাধারণত ২০ থেকে ২৫টি ঝাড়ুফুলের শলাকা দিয়ে একটি আঁটি তৈরি করা হয়। মানভেদে প্রতিটি আঁটি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি শলাকা ২ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এসব ঝাড়ুফুল চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
চাহিদা বাড়তে থাকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ঝাড়ুফুলের পাশাপাশি এখন অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ঝাড়ুফুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্বল্প পুঁজিতে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় এটি পাহাড়ি অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচনের সম্ভাবনাময় নতুন হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঝাড়ুফুল ব্যবসায়ী মো. ইমরান জানান, শীত মৌসুমের শুরু থেকেই তারা পাহাড়ের বিভিন্ন বাজার থেকে ঝাড়ুফুল সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো একত্র করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় সংগ্রাহকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পরিকল্পিত চাষাবাদ এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই বনজ সম্পদ পাহাড়ি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও ঝাড়ুফুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।