বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুদকের মামলায় কারাগারে বান্দরবানের পিআইও, সাময়িক বরখাস্ত খাগড়াছড়িতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালী ও আলোচনা বাঘাইছড়িতে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবস: ৩০ বছর পরও বিচারের দাবিতে স্বজনদের কর্মসূচি দীঘিনালায় প্রথমবার আখ চাষ, ৩-৪ লাখ টাকা আয়ের আশা বদন কুমার চাকমার রাঙ্গামাটিতে ৪২ মোবাইল ও ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার, মালিকদের কাছে হস্তান্তর ‘ম্যাডাম’ না বললে মেলে না চিকিৎসাসেবা—গুইমারায় ইসলামিক মিশন প্রধানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বাঘাইছড়িতে সাড়ে ৪ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ করল বিজিবি লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ, ৩ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা দীঘিনালায় সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাতামুহুরি কলেজে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ লামায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  রাজস্থলীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

পাহাড়ের ঝাড়ুফুল এখন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল

হাবীবুল্লাহ মিসবাহ, রাজস্থলী প্রতিনিধি।।

বাংলার চিরায়ত লোকজ ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ‘ঝাড়ুফুল’ এখন পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে সংগৃহীত এই প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সমতলের বড় বাজারেও সরবরাহ হচ্ছে।

পাহাড়ের ঢালু ভূমি, পাদদেশ ও ঝর্ণার আশপাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় ঝাড়ুফুল। প্রতি বছর শীত মৌসুমে পাহাড়জুড়ে এই ফুলের ব্যাপক সমারোহ দেখা যায়। মৌসুম এলেই স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ঝাড়ুফুল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করেন। বন থেকে সংগ্রহের পর ফুলগুলো কাঁচা কিংবা শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়।

বর্তমানে পাহাড়ের হাটগুলোতে ঝাড়ুফুলের বেচাকেনা বেশ জমজমাট। সাধারণত ২০ থেকে ২৫টি ঝাড়ুফুলের শলাকা দিয়ে একটি আঁটি তৈরি করা হয়। মানভেদে প্রতিটি আঁটি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি শলাকা ২ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এসব ঝাড়ুফুল চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

চাহিদা বাড়তে থাকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ঝাড়ুফুলের পাশাপাশি এখন অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ঝাড়ুফুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্বল্প পুঁজিতে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় এটি পাহাড়ি অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচনের সম্ভাবনাময় নতুন হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঝাড়ুফুল ব্যবসায়ী মো. ইমরান জানান, শীত মৌসুমের শুরু থেকেই তারা পাহাড়ের বিভিন্ন বাজার থেকে ঝাড়ুফুল সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো একত্র করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় সংগ্রাহকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পরিকল্পিত চাষাবাদ এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই বনজ সম্পদ পাহাড়ি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও ঝাড়ুফুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *