রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান নানিয়ারচরে সীরাতুন্নবী মাহফিল করেছে জামায়াত ইয়াবা ঠেকাতে কক্সবাজার-বান্দরবানে এআই ক্যামেরার প্রস্তাব মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে লামায় পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা শ্রদ্ধেয় ভদন্ত সুমনালঙ্কার মহাথেরোর মহাপ্রয়াণে ওয়াদুদ ভূইয়া এম.পি’র শোক প্রকাশ মহালছড়িতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটি নিয়ে ইউপিডিএফের প্রতিক্রিয়া মাটিরাঙ্গায় অস্বাস্থ্যকর মিষ্টি বিক্রি: বনফুলকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন কমিটি গঠন: সরকারকে পিসিএনপির অভিনন্দন ১৪ সেপ্টেম্বর ‘সুরের আঙিনায় গুরুপ্রণাম’ খাগড়াছড়িতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান রাজস্থলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে তিন কমিটি গঠনে পিসিএনপির অভিনন্দন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, বাঘাইছড়িতে দুই দোকানিকে জরিমানা রাঙ্গুনিয়াতে বেতছড়ি একতা সমিতির সদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া : পাহাড়ের রাজনীতিতে দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক

চারু বিকাশ ত্রিপুরা

বাংলাদেশের পার্বত্য জনপদ খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে সময়ের প্রবাহে ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে ওঠা একটি নাম—আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সুসংহত সাংগঠনিক প্রজ্ঞা এবং তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্বের দৃঢ় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি পাহাড়ের রাজনীতিতে নিজস্ব এক স্বতন্ত্র অবস্থান নির্মাণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হলো—দৃঢ়তায় অবিচল, কিন্তু আচরণে সহজ; আদর্শে স্থির, কিন্তু বাস্তবতায় মনোযোগী।

তবে বিস্ময়ের বিষয়, তাঁর এই দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এখনো তেমন বিস্তৃত গবেষণা, বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ বা প্রামাণ্য দলিল চোখে পড়ে না। সময়ের আবর্তে তাঁর বহু অবদান আড়ালেই থেকে গেছে; সংগ্রাম, ত্যাগ, সাফল্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের নানা অধ্যায় যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। সেই অভাববোধ থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন, আদর্শিক বিকাশ, সাংগঠনিক সংগ্রাম এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার এক আন্তরিক প্রয়াস এই লেখা।

ইতিহাস সংরক্ষণ যেমন সময়ের দাবি, তেমনি একটি অঞ্চলের রাজনৈতিক বিবর্তনে যাঁরা ভূমিকা রাখেন, তাঁদের পথচলার দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান দিকনির্দেশনা হয়ে ওঠে। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা—যাতে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা সম্পর্কে জনগণ একটি সুস্পষ্ট ও সুসংগঠিত ধারণা লাভ করতে পারেন।

রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু ছাত্রজীবনে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্বে থেকে তিনি নতুন প্রজন্মকে আদর্শিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলায় গড়ে তোলেন এবং তৃণমূলভিত্তিক এক শক্ত কাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ছাত্ররাজনীতির এই অধ্যায়ই তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে—যা পরবর্তীকালে বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

পরবর্তী সময়ে খাগড়াছড়ি আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জনগণের অকুণ্ঠ আস্থা অর্জন করেন। ৬ষ্ঠ (১৯৯৬) ও ৮ম (২০০১) জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকালে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি কেবল আইনপ্রণেতার ভূমিকায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা, দাবি ও সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করেছেন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে।

জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে সড়ক নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নসহ নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, যা পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনে। উন্নয়ন তাঁর কাছে কখনোই কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল না; এটি ছিল নৈতিক দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বাস্তব প্রয়োগের সমন্বিত রূপ।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে খাগড়াছড়ি জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর সভাপতি হিসেবে তিনি সংগঠনকে সুসংগঠিত, সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রাখেন। তৃণমূল কমিটি পুনর্গঠন, কর্মীসভা আয়োজন, নতুন নেতৃত্বের বিকাশ এবং নির্বাচনমুখী প্রস্তুতিতে তাঁর কৌশলগত ও দূরদর্শী ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়েও দলীয় ঐক্য অটুট রাখার প্রয়াস তাঁকে নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় বিজয় তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রম, জনসম্পৃক্ততা এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের পর তিনি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই সমন্বয়ধর্মী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
তাঁর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সহজ-সরল, যোগাযোগবান্ধব ব্যক্তিত্ব। দৃঢ়তা ও ব্যক্তিত্বের সরলতার সুষম সমন্বয় তাঁকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিসরে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা এবং প্রশাসনিক নেতৃত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি আজ জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত এক পরীক্ষিত নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তাঁকে নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে গভীর ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান দিয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল সংগঠনকে সুসংহত রাখা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থির ও বিচক্ষণ অবস্থান গ্রহণের সক্ষমতা তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

সবশেষে বলা যায়, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় সংসদ এবং প্রশাসনিক নেতৃত্ব—প্রতিটি স্তরে তিনি দায়িত্ববোধ, ধারাবাহিকতা ও জনসম্পৃক্ততার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন। খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক মানচিত্রে তিনি কেবল একজন নেতা নন; তিনি সংগ্রাম, সংগঠন, উন্নয়ন ও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারে গড়ে ওঠা এক দীর্ঘ ও প্রেরণাদায়ী রাজনৈতিক অভিযাত্রার প্রতীক।

লেখক পরিচিতি: চারু বিকাশ ত্রিপুরা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক, থাইল্যান্ড প্রবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *