সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১৩৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা, নতুন কর নেই খাগড়াছড়িতে ১৭৬ বন্যাকবলিত পরিবার পেল নগদ সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী সাজেকে নিহত শিক্ষিকার পরিবারকে পাশে থাকার আশ্বাস বিজিবির বান্দরবানে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু, দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণে গুরুত্বারোপ পানছড়িতে বন্যাদুর্গত ১৫০ পরিবার পেল ত্রাণ সহায়তা খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা ক্লাবের উদ্বোধন রাঙ্গুনিয়ায় অসহায় ও অসুস্থ রোগীদের আর্থিক সহায়তা দিল প্রবাসী কর্ণফুলী ক্রীড়া পরিষদ আগাম প্রস্তুতিতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমেছে, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের ঘোষণা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর ছয় মাসে বদলে গেল মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের চিত্র বান্দরবানে শতাধিক বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উখিয়ায় বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি, ৪৭৭ জনের চিকিৎসাসেবা বিলাইছড়ির ফারুয়ায় বন্যাদুর্গত আরও ৬০০ পরিবারকে ত্রাণ দেবে আশিকা পানছড়ি বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা টানা বর্ষণে ঘর হারানো বৃদ্ধকে নতুন ঘর দিল মাটিরাঙ্গা জোন দীঘিনালায় ২৬ হাজার গাছের চারা বিতরণ সেনাবাহিনীর

ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার নতুন ভবন, জনবল ও অবকাঠামো সংকটে ব্যাহত সেবা

Reporter Name

জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার।।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রের পরিত্যক্ত তিনটি পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে নতুন ভবনের কাজ শুরুর আগ পর্যন্ত জনবল, নিরাপত্তা, আবাসন ও অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কম্পাউন্ডে অবস্থিত দুইতলা একটি ভবনে একসঙ্গে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং নবগঠিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগের কথা থাকলেও আবাসনের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে একজন নিরাপত্তাকর্মী পুরো কম্পাউন্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, যা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া কম্পাউন্ডের ভেতরে দুটি বড় ময়লার স্তূপ রয়েছে। প্রধান ফটক নির্মাণ করা হলেও মাঝেমধ্যে তালা ভেঙে ফেলা বা আঠা লাগিয়ে অচল করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কেন্দ্রটিতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের আটজন মেডিকেল অফিসারের পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। তাদের একজন বিডিএস চিকিৎসক এবং একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের আলাদা অর্থনৈতিক কোড চালু না হওয়ায় বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডা. রোখসানা আফাজ। তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, বর্তমানে ব্যবহৃত দুইতলা ভবনটি আগে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে ছিল। পরবর্তীতে এটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সীমিত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কেন্দ্রে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোখসানা আফাজ বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রধান ফটক স্থাপনসহ কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ভবনে তিনটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আবাসনের অভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রটির উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণে সরকার ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরোনো তিনটি ভবন অপসারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকাজ শুরু হবে।

তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতাপ্রাপ্ত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হলেও বরাদ্দের অর্থ বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) তহবিল থেকে প্রদান করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় তদারকি করছে।

ডা. টিটু চন্দ্র শীল আরও বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হলে সেখানে বিশেষজ্ঞ পরামর্শসেবা, মেডিকেল অফিসার নিয়োগ, গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা এবং বহির্বিভাগের কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তবে এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল বা বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকেন্দ্র না হওয়ায় রোগী ভর্তি রাখা যাবে না; বহির্বিভাগের সেবাই দেওয়া হবে।

চিকিৎসকদের অন্যত্র বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় বেতন-ভাতা না পেলে চিকিৎসকদের অসন্তুষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক। ঈদগাঁও উপজেলার জন্য পৃথক অর্থনৈতিক কোড চালু হলে পুনরায় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রস্তাব ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, পরিত্যক্ত তিনটি ভবন অপসারণের কাজ চলছে। নতুন ভবন নির্মাণের দায়িত্ব স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হবে। ভবন নির্মাণ শেষে তা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, ঈদগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, টেন্ডার, বাস্তবায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করবে।

এই প্রতিবেদনটি জাতীয় দৈনিকের উপযোগী করে নিরপেক্ষ ভাষায় পুনর্লিখন করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া হয়েছে, ব্যাকরণ ও শব্দচয়ন সংশোধন করা হয়েছে এবং তথ্যগুলো সংবাদধর্মী কাঠামোতে সাজানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *