
দিদারুল হৃদয়, গুইমারা প্রতিনিধিঃ
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশানুরূপ ফলাফল হয়নি। মোট ৪৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১৫৩ জন। ফলে পাঁচ প্রতিষ্ঠানে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ জন।
প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩২ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
অন্যদিকে সিন্দুকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৮ জন। পাসের হার ২৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০ জন। পাসের হার ৪০ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও শহীদ লে. মুশফিক উচ্চ বিদ্যালয়। গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ শতাংশ এবং একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে শহীদ লে. মুশফিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭ জনের মধ্যে ৩২ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি উপজেলার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ফলাফলে এমন চিত্র উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে তিনটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৪১ শতাংশের নিচে হওয়ায় শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভিভাবকীয় তদারকি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়গুলো নতুন করে গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দায় নির্ধারণ না করে কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে, শিক্ষকদের পাঠদানের পরিবেশ কেমন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার এবং ঝরে পড়ার কারণ কী—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।