
মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি
ছোট্ট একটি দোকান। অথচ সেই দোকানের আয়েই চলে ছয় সদস্যের সংসার। স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে আব্দুল জলিলের পরিবার। সন্তানদের মধ্যে দুজন পড়াশোনা করে। কিন্তু দোকানে পর্যাপ্ত মালামাল না থাকায় এতদিন চা বিক্রি করেই কোনোমতে সংসারের খরচ চালাতে হচ্ছিল তাকে। পুঁজি না থাকায় ব্যবসা বড় করার স্বপ্নও ছিল অনেকটা অধরা।
এমন পরিস্থিতিতে আব্দুল জলিলের পাশে দাঁড়িয়েছে উপায় ফাউন্ডেশন। স্বাবলম্বী প্রকল্পের আওতায় তাঁর দোকানে ১৩ ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করে দোকানটি নতুন করে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে চায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর।
আব্দুল জলিল খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার আশ্রম গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে অল্প পুঁজি নিয়ে দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। দোকানে পণ্য না থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মালামাল দিতে পারতেন না। ফলে সীমিত আয়েই সংসার চালাতে হতো।
উপায় ফাউন্ডেশনের স্বাবলম্বী প্রকল্পের মাধ্যমে এবার তাঁর সেই সীমাবদ্ধতা কিছুটা দূর হয়েছে। কানাডার ‘সিস্টার্স হালাখা গ্রুপ’ উপায় ফাউন্ডেশনের কন্ট্রিবিউটর হিসেবে এ প্রকল্পে ৬ হাজার ২৫০ টাকা সহায়তা দিয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে আব্দুল জলিলের দোকানে ১৩ ধরনের পণ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। উপায় ফাউন্ডেশনের খাগড়াছড়ি প্রকল্প টিমের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন মাওলানা মো. শাহজালাল (ডিএম: জি)।
উপায় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, “অসহায় মানুষকে শুধু এককালীন সহায়তা নয়, বরং আয় করার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আব্দুল জলিলের মতো পরিবারগুলো যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যেই উপায় ফাউন্ডেশনের স্বাবলম্বী প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।”
দোকানে নতুন পণ্যসামগ্রী পাওয়ার পর আব্দুল জলিলের পরিবারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন চায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে আয় বাড়াতে পারবেন তিনি। এতে পরিবারের দৈনন্দিন খরচের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতেও কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দারিদ্র্য দূরীকরণে শুধু ত্রাণ বা অনুদান নয়, মানুষের হাতে আয়ের একটি স্থায়ী মাধ্যম তুলে দেওয়া বেশি কার্যকর। আব্দুল জলিলের দোকানে পণ্যসামগ্রী দিয়ে উপায় ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই একটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ।