
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, লামা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লামা-আলীকদম সড়কের একাধিক অংশ তলিয়ে গেছে। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং লামা ও আলীকদম উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সকালের পর থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লামা বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে উপজেলার ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের আড়াই মাইল থেকে বড়ছনখোলা ও কমিউনিটি সেন্টার বাজারে যাওয়ার একমাত্র কাঠের সেতুটি পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেঙে গেছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে ফাইতং ইউনিয়নের কুইজ্জাখোলা পাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
লামা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অনেক স্থানে মানুষ সীমিতভাবে চলাচল করছেন। রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায়ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে।
গজালিয়া ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোও প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।