বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহী: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ- পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আশিকা ডেভেলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েটস এর উদ্যোগে প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহালছড়ি উপজেলায় জাবারং কল্যান সমিতির আয়োজনে প্রকল্প অবহিতকরণ ও মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়িতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও র‌্যালী ১১টি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি নয়ন চৌধুরী ৩৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার গুইমারায় সিন্দুকছড়ি জোনের মাসিক নিরাপত্তা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে শতবর্ষী মেরাখোলা কবরস্থান বিলাইছড়িতে বিনামূল্যে ৮ হাজার ৪০০ চারা বিতরণ কাপ্তাইয়ে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল ও পোশাক সামগ্রী বিতরণ ঘর নেই, স্বজন নেই—জরাজীর্ণ যাত্রী ছাউনিতে ৭৫ বছরের অসুস্থ জহুরা পেরাছড়ায় কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভা পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে রাজস্থলীর ‘বড় ঝর্ণা’ খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে বেকারদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ নতুন দায়িত্ব পেয়েই দীঘিনালায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্যবৃন্দরা ঈদগাঁওতে মাদকের সরঞ্জামসহ ১২ মাদকসেবী আটক

টানা বর্ষণে লামায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ৩০ হাজারের বেশি

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
টানা পাঁচ-ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস, সড়ক তলিয়ে যাওয়া, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, লামা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লামা-আলীকদম সড়কের একাধিক অংশ তলিয়ে গেছে। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং লামা ও আলীকদম উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সকালের পর থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লামা বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে উপজেলার ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের আড়াই মাইল থেকে বড়ছনখোলা ও কমিউনিটি সেন্টার বাজারে যাওয়ার একমাত্র কাঠের সেতুটি পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেঙে গেছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে ফাইতং ইউনিয়নের কুইজ্জাখোলা পাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

লামা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অনেক স্থানে মানুষ সীমিতভাবে চলাচল করছেন। রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায়ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে।

গজালিয়া ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোও প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *