শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজস্থলীতে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের খাবার বিতরণ করেছেন ইউএনও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবারের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ বন্যা দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ বন্যাকবলিত কুহালংয়ের দুর্গম এলাকায় ৫৩ পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ মহালছড়িতে বিভিন্ন গ্রামীন সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত; জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের আকুতী স্থানীয় বাসিন্দারদের লামা-আলীকদম দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ-নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে চরম দুর্ভোগে ঈদগাঁও-জালালাবাদের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ বরকলে ভারতে পাচারের সময় ২.১ টন ইউরিয়া সার জব্দ বন্যাকবলিত বাঘাইছড়িতে বিএনপি নেতাদের পরিদর্শন, দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অতিবর্ষণে রাঙামাটিতে আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজারের বেশি মানুষ, পাহাড় ধস ৯৭ স্থানে সাজেক থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় ফিরছেন ৪২১ পর্যটক কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার বান্দরবানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে ১৪০ বন্যাদুর্গতকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর রাঙ্গুনিয়ায় থানা পরিদর্শনে চট্টগ্রাম এসপি, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর বার্তা ঈদগাঁওয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিভিন্ন ব্যক্তি-সংগঠনের ত্রাণ সহায়তা

টানা বর্ষণে লামায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ৩০ হাজারের বেশি

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
টানা পাঁচ-ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস, সড়ক তলিয়ে যাওয়া, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, লামা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লামা-আলীকদম সড়কের একাধিক অংশ তলিয়ে গেছে। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং লামা ও আলীকদম উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সকালের পর থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লামা বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে উপজেলার ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের আড়াই মাইল থেকে বড়ছনখোলা ও কমিউনিটি সেন্টার বাজারে যাওয়ার একমাত্র কাঠের সেতুটি পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেঙে গেছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে ফাইতং ইউনিয়নের কুইজ্জাখোলা পাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

লামা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অনেক স্থানে মানুষ সীমিতভাবে চলাচল করছেন। রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায়ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে।

গজালিয়া ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোও প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *