
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান অভিভাবকদের একটি অংশ। এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফি আদায় এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। গত ১০ বছরের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে অডিট করার দাবিও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বহিরাগত শিক্ষার্থীকে বোর্ড ফি দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের হাজিরা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রশংসাপত্র ও সনদপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে নেওয়া হলেও এর যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এডমিট কার্ড, ব্যবহারিক পরীক্ষা, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, ভর্তি, উপস্থিতি ফরম এবং নবম-দশম শ্রেণির কোচিংয়ের নামেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন অভিভাবকদের কেউ কেউ।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৯ সালে একটি ল্যাপটপ, ২০২০ ও ২০২৬ সালে পুরোনো টিন এবং টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য ও পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া বা বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে বিদ্যালয়ের ১৩ বস্তা পুরোনো বই গায়েব হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা নিয়মিত না হওয়া এবং বিদ্যালয়ের মাঠ ও সামগ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকদের একটি অংশ। তাদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা বিদ্যালয়ের গত ১০ বছরের ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয়ের বিবরণী, আদায়কৃত বিভিন্ন ফি, সম্পদ বিক্রির তথ্য, বোর্ড-সংক্রান্ত লেনদেন এবং পরিচালনা কমিটির কার্যবিবরণী যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগের বিষয়ে ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।