
মো. গোলামুর রহমান, লংগদু প্রতিনিধি।।
পার্বত্য রাঙামাটির সীমান্তঘেঁষা ও কাপ্তাই হ্রদবেষ্টিত উপজেলা লংগদুতে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের তদারকি বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইনের উদ্যোগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাহাঙ্গীর হোসাইন উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদবেষ্টিত দুর্গম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর কাছেও সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ঝরে পড়া রোধে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদান, সামাজিক বনায়ন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এডিপির আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নেও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিশুদের বিনোদনের জন্য ‘শিশু অবকাশ’ নামে একটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদের ঢেউয়ে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধে গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম শিলাছড়া এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে লংগদুর কয়েকটি ফেরিঘাটের ইজারার ক্ষেত্রেও এবার রাজস্ব আয় বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে যেখানে ফেরিঘাট থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৮ লাখ টাকা ইজারা পাওয়া যেত, চলতি বছর সেখানে ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা ইজারা মূল্য পাওয়া গেছে। এ আয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি জানান, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের তদারকি বাড়ায় বিভিন্ন সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে গতি এসেছে। দুর্গম এলাকার মানুষের সমস্যাগুলো প্রশাসনের নজরে আসায় কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলেও তারা জানান।
তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল কতটা স্থায়ী হচ্ছে, তা নির্ধারণে প্রকল্পের মান, উপকারভোগী নির্বাচন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যেন প্রান্তিক মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, সেটিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লংগদুর উন্নয়নে প্রশাসনের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।