
সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির বিলাইছড়িতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের অংশীজনদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘অ্যাক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফ-সেভিং সার্ভিসেস বাই দ্য মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস ইন সিএইচটি ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় সভাটির আয়োজন করা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রামাচরণ মারমা (রাসেল) সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক। প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর রবীন চন্দ্র চাকমা পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও লক্ষ্য তুলে ধরেন।
সভায় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রায় চাকমা (রায় বাবু), নারী সদস্য কবিতা চাকমা, মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল বড়ুয়া, ওয়ার্ড সদস্য সুবানন্দ তঞ্চঙ্গ্যা, যতীন তঞ্চঙ্গ্যা, দয়ারঞ্জন চাকমা, থুই প্রু কার্বারী, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রতিনিধি শান্তি চাকমা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধি বসন্ত চাকমা এবং আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের সুজন তঞ্চঙ্গ্যাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে তিন পার্বত্য জেলায় সমন্বিত পুষ্টি, খাদ্যনিরাপত্তা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঁচ বছরের কম বয়সী ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও তাদের পরিবারের পুষ্টিগত ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
প্রকল্পের আওতায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র অপুষ্টি প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাঝারি ও তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই জীবিকা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধার প্রাপ্যতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মুয়াক (গটঅঈ) ও জেড-স্কোরিংয়ের মাধ্যমে মাঝারি ও তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু শনাক্ত করা হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিলাইছড়ি উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৯ জন মাঝারি অপুষ্টিতে আক্রান্ত এবং তিনজন তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু শনাক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া অপুষ্টিতে আক্রান্ত ১২টি শিশুর পরিবারকে আয়বর্ধক কার্যক্রম (আইজিএ) সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।