
মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় কৃষকদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত ও কৃষি খাতের উন্নয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও নিবন্ধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাটিরাঙ্গার গড়গড়িয়া নাল, গোমতী ও বান্দরছড়া—এই তিনটি কৃষি ব্লকে কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে ১ হাজার ৩৯৩ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীন চৌধুরীর উপস্থিতিতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছেন। পরে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করে যোগ্য কৃষকদের অনুমোদন দেবে।
কৃষক কার্ডের আওতায় নিবন্ধিত হলে প্রকৃত কৃষকেরা সরকারি কৃষি সহায়তা সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, কৃষক কার্ড চালু হলে প্রকৃত কৃষকেরা সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। এতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণে অনিয়ম কমার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগবালাই দমনে পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ।
মাটিরাঙ্গার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবদিন বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ছাড়াই কৃষকেরা সার, বীজ, কৃষিঋণসহ সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন সুবিধা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।”
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং একটি স্বচ্ছ কৃষি তথ্যভান্ডার গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়নের যোগ্য কৃষকদের ডিজিটাল কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষক কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে মাটিরাঙ্গার প্রান্তিক কৃষকেরা সরকারি সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির প্রসার ঘটবে।