
দীপক সেন, মহালছড়ি।।
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার সদর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী দক্ষিণা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে আগামী ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসব সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে রাজু দেকে সভাপতি, জুয়েল দাশকে সাধারণ সম্পাদক এবং সুব্রত দেবনাথকে অর্থ সম্পাদক করে দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্দির পরিচালনা কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং মহালছড়ির সনাতনী সমাজের সহযোগিতায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পঞ্চমীর সন্ধ্যায় দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজা, দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের পাশাপাশি বিকেল ৩টায় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
১৭ অক্টোবর সপ্তমীপূজা উপলক্ষে বিকেল ৩টায় গীতাপাঠ প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আরতি, ধুনুচি নৃত্য ও ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। ১৮ অক্টোবর অষ্টমীপূজার দিনে বিকেল ৩টায় চণ্ডীপাঠ প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় আরতি, ধুনুচি নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আরতি, ধুনুচি নৃত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘শ্রীরাম কথা’ শীর্ষক ধর্মীয় নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে। ২০ অক্টোবর মহানবমীপূজা উপলক্ষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আরতি, ধুনুচি নৃত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ‘শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা’ শীর্ষক ধর্মীয় নাটক পরিবেশিত হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
এ আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা এবং জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত ও পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন।
এ ছাড়া মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ, ৬ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন।
আয়োজকদের আশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের মধ্য দিয়ে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।