
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের আনাগোনা, চারপাশে সবুজ বন আর দূরে বঙ্গোপসাগরের জলরাশি—প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যময় দৃশ্য দেখা যায় বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা ভ্যালিতে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উচ্চতার এ পাহাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে আশপাশের পাহাড়, বনভূমি, মাতামুহুরী নদী এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দূরের সমুদ্রও দেখা যায়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে মিরিঞ্জা ভ্যালি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে অনেকে এলাকাটিকে ‘দ্বিতীয় সাজেক’ বলেও উল্লেখ করেন। ভোরে পাহাড়জুড়ে মেঘের চাদর আর বিকেলে সূর্যাস্তের দৃশ্য এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।
মিরিঞ্জা ভ্রমণের পাশাপাশি কাছাকাছি মারায়ংতং পাহাড়, আলীর গুহা, ডিম পাহাড়, মায়া লেক ও সুখিয়া ভ্যালি ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।
যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে কক্সবাজার বা আলীকদমগামী বাসে চড়ে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হয়। এরপর চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে স্থানীয় বাস, জিপ, চাঁদের গাড়ি অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিরিঞ্জার দিকে যাওয়া যায়।
চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জার দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার। স্থানীয় যানবাহনে যেতে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগতে পারে। মিরিঞ্জা বাজার থেকে প্রায় ১০ মিনিট হাঁটলে ভ্যালির কাছাকাছি পৌঁছানো যায়।
ঢাকা থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। যানজট ও পরিবহনের ধরন অনুযায়ী ঢাকা থেকে যেতে প্রায় ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
খরচ: চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জা পর্যন্ত স্থানীয় বাস বা জিপে জনপ্রতি আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং সিএনজিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়া লাগতে পারে। তবে স্থানীয় পরিবহনভেদে ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে। দলবদ্ধভাবে গেলে চকরিয়া থেকে ব্যক্তিগত জিপ বা চাঁদের গাড়ি ভাড়া করাও একটি বিকল্প।
ট্রেকিং: মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যেতে দীর্ঘ বা কঠিন ট্রেকিংয়ের প্রয়োজন হয় না। চাঁদের গাড়িতে মুরুমপাড়া পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে প্রায় ২০ মিনিট পাহাড়ি পথে হাঁটলে ভ্যালিতে পৌঁছানো যায়। আবার মিরিঞ্জাপাড়া পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে সেখান থেকে প্রায় ১০ মিনিট হাঁটলেও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।
পাহাড়ি পথ হওয়ায় ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবহার করা সুবিধাজনক। বর্ষাকালে পথ পিচ্ছিল থাকতে পারে।
কখন যাবেন: মেঘ দেখতে চাইলে বর্ষার শেষভাগ থেকে শীতের শুরুর সময় মিরিঞ্জা ভ্রমণ উপযোগী হতে পারে। তবে বর্ষাকালে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল থাকে। নভেম্বরের দিকে আকাশ তুলনামূলক পরিষ্কার থাকলে পাহাড় ও দূরের সমুদ্র দেখার সুযোগ বেশি পাওয়া যেতে পারে।
থাকার ব্যবস্থা : একদিনে ঘুরে ফিরে আসা সম্ভব হলেও রাতে অবস্থান করলে ভোরের মেঘ ও সূর্যোদয় দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। মিরিঞ্জা এলাকায় পর্যটন কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং মিরিঞ্জা ভ্যালি মেঘ মাচাং রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
ভ্রমণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা, পর্যাপ্ত পানি ও শুকনো খাবার নেওয়া এবং পাহাড়ি এলাকায় দলবদ্ধভাবে চলাচল করা ভালো। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।