বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজস্থলীতে এমপির প্রতিনিধি মনোনীত হলেন চথোয়াইপ্রু এবং জিকু কুমার  লংগদুতে শাহ আলমের বিরুদ্ধে জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ মাটিরাঙ্গায় দুই ফার্মেসিকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা থানচিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিল উপজেলা প্রশাসন পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার দিল খাগড়াছড়ি সদর জোন বলীপাড়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩৮ বিজিবির সদস্যরা থানচিতে আগুনে ১৩ দোকান পুড়ে ছাই ব্যাঙছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপকরণ বিতরণ মাটিরাঙ্গায় বেহাল সড়ক মেরামতে আনসার-ভিডিপির উদ্যোগ বিলাইছড়িতে এমপির প্রতিনিধি জাফর আহাম্মদ ও ধনমনি চাকমা তামাক চাষ বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান লক্ষীছড়ির দুল্যাতলীতে প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি প্রশিক্ষণ পুষ্টিকর খাবারের রান্না প্রদর্শনী ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত মাইসছড়ি চৌধুরী পাড়ায় বাঘাইছড়িতে জিয়াউর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা হাজী নুরুল আলম একাদশের লংগদু জোন সদরে গণ্যমান্যদের সঙ্গে সমন্বয় সভা লামায় ৫ ইটভাটা মালিককে আসামী করে থানায় মামলা

রাঙ্গামাটিতে আগাম আমের মুকুল: পাহাড়ি অর্থনীতিতে সম্ভাবনার সুবাস

দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি ॥

শীতের রিক্ততা পেরিয়ে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন জানান দিচ্ছে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। ভোরের কুয়াশা সরিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় উঁকি দিচ্ছে সোনালি আভায় মোড়া আম্রকুঞ্জ। সবুজ পাহাড়ের ক্যানভাসে মুকুলের এই সমারোহ শুধু ঋতুচক্রের স্বাভাবিক রূপান্তর নয়—এটি পাহাড়ি অর্থনীতির জন্যও এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রাঙ্গামাটির পাহাড়ি বাগানগুলোতে এবার সময়ের আগেই আমের মুকুল এসেছে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় আম্রপালি ও রাংগুয়াই জাতের পাশাপাশি বিদেশি জাত কাটিমন এবং উচ্চমূল্যের মিয়াজাকি আমের গাছেও মুকুলের প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সম্ভাব্য বাম্পার ফলনের পূর্বাভাস দিচ্ছে।

জুম চাষনির্ভর পাহাড়ি অর্থনীতিতে গত এক দশকে আম চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অনেক প্রান্তিক কৃষক ধীরে ধীরে জুমের পাশাপাশি স্থায়ী ফল বাগানের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে আমের মুকুল মানেই কেবল একটি মৌসুমি দৃশ্য নয়, বরং পাহাড়ি জনপদের আর্থিক স্থিতিশীলতার সম্ভাব্য ইঙ্গিত।

রাঙ্গামাটির বড়াদম এলাকার বাগান মালিক সমরেশ চাকমা ও মোহনলাল চাকমা জানান, এবছর শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকায় মুকুল দ্রুত ও সমানভাবে এসেছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

তবে আশার পাশাপাশি কিছু শঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে ভোরের দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা আমের মুকুলে ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন চাষিরা। এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, কুয়াশাজনিত ফাঙ্গাস সংক্রমণ এড়াতে নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে ও বাগানের পরিচর্যায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাঙ্গামাটিতে প্রায় ৩ হাজার ৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

সব মিলিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় দুলতে থাকা এই মুকুল কেবল ফলনের পূর্বাভাসই নয়—এটি পাহাড়ি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, স্থায়িত্ব ও আশার নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে উঠছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *