
বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের হিমছড়িপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাহাড়ি দিক থেকে আসা ১০ থেকে ১১ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল প্রথমে ছৈয়দ আমিনের বাড়িতে প্রবেশ করে। সেখানে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এরপর ঘরে থাকা রান্না করা খাবার খেয়ে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।
পরে ডাকাতরা গুরা পুতুর বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ ৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে। সেখানেও তারা রান্না করা খাবার খেয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবশেষে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আহমদ হোসেনের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে ঘরে থাকা নগদ লক্ষাধিক টাকা, নতুন কাপড়চোপড় এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আহমদ হোসেন বলেন, ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাকে লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। তার স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় এবং ছেলেকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি ঘরে থাকা সব টাকা-পয়সা ডাকাতদের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে একই ইউনিয়নে স্থানীয় সাংবাদিক কায়ছার হামিদ ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বেড়েছে।
আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুর রহিম মুঠোফোনে বলেন, তিনি পারিবারিক কারণে ছুটিতে রয়েছেন। তার বাবা গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে ঘটনা জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।