
শফিক ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় সুস্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রান্না প্রদর্শনী ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় নারী ও কমিউনিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
“অ্যাক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস ইন বাংলাদেশ”’ প্রকল্পের আওতায় এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাইসছড়ি উপজেলার সমন্বয়কারী খোকন বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. মৃদুল কান্তি ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ রিমি চাকমা, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও মহালছড়ি ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর অজিত মারমা। সেশন পরিচালনা করেন কমিউনিটি নিউট্রিশন প্রমোটার আহলা মারমা ও সোহেলী চাকমা।
উঠান বৈঠকে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মৃদুল কান্তি ত্রিপুরা বলেন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সচেতন হতে হবে।
রান্না প্রদর্শনীতে মাংস, কলিজা, সয়াবিন, শিমের বিচিসহ সহজলভ্য বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার তৈরির পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এসব খাবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ সময় শিশু ও মায়েদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে স্থানীয়দের অবহিত করা হয়। এসব সরকারি সুবিধা গ্রহণে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান আয়োজকরা।
আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. মৃদুল কান্তি ত্রিপুরা স্থানীয় এলাকাবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন এবং জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের পরামর্শ দেন।