
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি।।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া থেকে দেবাছড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবারের মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ইট সলিং উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, ফলে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া থেকে কাপ্তাই লেক সংলগ্ন দেবাছড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি এলাকার অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম। ব্যাঙছড়ি মারমা পাড়া, দেবাছড়ি, দিঘলছড়ি, মরংছড়ি, নৌভাঙা, কেরেক কাভা, দেপ্যাছড়ি, রামপাহাড় ও মানিকছড়ি এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাকিস্তান আমল থেকে ব্যবহৃত এই সড়কটি ১৯৮৬ সালে প্রথম ইট সলিং করা হয় এবং ২০০০ সালের দিকে সর্বশেষ সংস্কার করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কোনো বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “রাস্তাটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে গর্ভবতী নারী, শিশু ও অসুস্থদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।” একই এলাকার প্রীতি কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও এখন এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।”
অটোচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে যানবাহন চালাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। “গাড়ি বারবার মেরামত করতে হয়। অনেক সময় নিজের উদ্যোগে গর্ত ভরাট করেছি, কিন্তু তা স্থায়ী সমাধান নয়,” বলেন তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে কাদায় এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতেও বাড়তি পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সড়কটির গুরুত্ব সম্পর্কে তারা অবগত। “আমরা পরিদর্শন করে প্রাক্কলন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তবে সড়কটির কিছু অংশ বনবিভাগের আওতাধীন হওয়ায় আপত্তির কারণে কাজ এগোচ্ছে না,” বলেন তিনি।
বনবিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণে আইনি জটিলতা রয়েছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধান জরুরি।
কাপ্তাইয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, “এটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের প্রধান সড়ক। কয়েক হাজার মানুষের স্বার্থে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারিরাও দ্রুত সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।