
হাবীবুল্লাহ মিসবাহ, রাজস্থলীঃ
নওমুসলিম ছেলে-মেয়েদের অপহরণ করে রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া সনাতন ঋষি আশ্রমে বন্দি রেখে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, ইন্ডিয়া পাচারের পাঁয়তারা এবং এর সাথে জড়িতদের শাস্তি ও আশ্রমটি নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজার চত্বরে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর রাজস্থলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবু হোরায়রার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস নদভী। এছাড়াও এতে রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন দায়িত্বশীল আলেমরা বক্তব্য প্রদান করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রীষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পরের শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে বসবাস করে আসছে। কিন্তু পরিতাপের এবং ষড়যন্ত্রের বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধরে একটি অনাথ আশ্রমের নাম ব্যবহার করে দিনের পর দিন মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত নারী পুরুষদের দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে তাদের হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করার কাজ করে আসছে। এছাড়াও আশ্রমে নিয়ে আসা নওমুসলিম নারী পুরুষদের অচেতন ও ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে তাদের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে ইসকনের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতন করারও অভিযোগ করা হয়।
এসব অনৈতিক কাজের কারণে এই এলাকাতে হিন্দু-মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তারা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বক্তারা বাঙ্গালহালিয়া সনাতন ঋষি আশ্রম বন্ধ এবং দেশ বিরোধী ইসকনের কার্যক্রমসহ আশ্রম টির পরিচালক শ্রী সনাতন ঋষি মহারাজকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির দাবি জানান। প্রশাসন আগামী বুধবারের মধ্যে এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ারও আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ যে, চট্টগ্রাম মুহসিন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তন্নী দে ঋপন্না (বর্তমান আয়শা সিদ্দিকা জারা) স্বইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কয়েকমাস পর তার মা-বাবা পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়া ঋষি আশ্রমে নিয়ে আসেন। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এই সংবাদ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন জানতে পেরে আশ্রমের একটি নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে নওমুসলিম মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। পরবর্তী পরিস্থিতির অবনতি হলে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের উদ্যোগে নওমুসলিম মেয়েটিকে তার মা-বাবাসহ থানা হেফাজতে নিয়ে ঈদগাঁ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।