রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফেসবুক স্ট্যাটাসে নজর, রাঙ্গামাটির আসামবস্তি কেন্দ্রীয় শ্মশানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন বান্দরবানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত ১১ কোটি টাকায় বান্দরবানে তিনটি আধুনিক বাজার ভবন সম্পন্ন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সাজেকে পর্যটকের হারানো মোবাইল উদ্ধার করে ফেরত দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লংগদুতে জমি দখল ও আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি ৩৭ বিজিবির লামায় মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স পাহাড় বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবাসন সংকটে লামার ১,৩২৫ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রভাব পড়ছে সেবায় জ্ঞানের আলো ছড়াতে ঈদগাঁওতে নতুন পাঠাগার পানছড়ির মরাটিলায় ঝর্ণা থেকে পাওয়া ‘শিবমূর্তি’ ঘিরে ভক্তদের ভিড়, পৃথক মন্দির নির্মাণে সহায়তার আহ্বান কাপ্তাইয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন লামায় প্রশাসন ও কারিতাস’র বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন ঈদগাঁওতে দু’ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা বান্দরবানে সীমান্তে ৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ১০০৮৪১ পিস ইয়াবা উদ্ধার ইসলামপুর ইউনিয়ন বাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী: যুবনেতা ইমরুল হাসান তালুকদার বাংলা আমার প্রণোদনা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক ও বাচিকশিল্পী চিংলামং চৌধুরী
Notice :

লামায় মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স পাহাড়

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ঘেরা জনপদ বান্দরবানের লামা উপজেলায় গড়ে উঠছে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা। একসময় দুর্গম ও অনুন্নত হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলের মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স বর্তমানে দেশীয় পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মেঘমালা, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামোর সমন্বয়ে এলাকাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিরিঞ্জা পাহাড় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। পাহাড়চূড়া থেকে দেখা যায় সবুজ পাহাড়ের সারি, মাতামুহুরী নদীর আঁকাবাঁকা প্রবাহ এবং বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য। বর্ষা ও শীত মৌসুমে পাহাড়ের চূড়াজুড়ে মেঘের আস্তরণ সৃষ্টি হওয়ায় দর্শনার্থীরা ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

পর্যটন উদ্যোক্তারা জানান, বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মিরিঞ্জা ভিউ পয়েন্টে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শীত ও বর্ষা মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।

পর্যটন করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকায় পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সেখানে ওয়াচ টাওয়ার, পর্যবেক্ষণ ডেক, বিশ্রামাগার, নিরাপদ হাঁটার পথ, দর্শনার্থীদের বসার স্থান, গাড়ি পার্কিং সুবিধা, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ মিরিঞ্জাকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিকাশে সহায়তা করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনকে কেন্দ্র করে লামা উপজেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন রিসোর্ট ও আবাসন ব্যবসা গড়ে উঠছে, রেস্তোরাঁ ও খাদ্যসেবা খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং পরিবহন খাতে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষিপণ্য ও পাহাড়ি ফলের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে ইকো-রিসোর্ট, পরিবেশবান্ধব কটেজ, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ট্রেকিং, মাউন্টেন বাইকিং, ক্যাম্পিং এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এছাড়া মার্মা, ত্রিপুরা, চাকমা ও ম্রোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, মাতামুহুরী নদীকে কেন্দ্র করে নৌভ্রমণ, ইকো-ট্যুরিজম এবং প্রকৃতি পর্যবেক্ষণভিত্তিক কার্যক্রম চালুরও সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার-চকরিয়া-লামা-আলীকদম-বান্দরবান রুটে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের অবস্থানকাল বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে পর্যটনের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে পরিবেশগত কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মিরিঞ্জার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল পর্যটন নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সমন্বিত মহাপরিকল্পনা, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ, নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থা, আধুনিক আবাসন সুবিধা, ডিজিটাল প্রচারণা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে মিরিঞ্জা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

একসময় স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ থাকা এই পাহাড় এখন পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *