রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘাইছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন লামায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন “সবুজে গড়বো আগামীর বাংলাদেশ” খাগড়াছড়িতে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থানচিতে উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসব প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন খাগড়াছড়ি সদর এলজিইডি’র আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন সীমান্তে অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে পানছড়ি কেষ্টমনি পাড়ায় বিজিবি’র নতুন ক্যাম্প স্থাপন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য ঈদগাঁওবাসী ছিলেন অধির অপেক্ষায় বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে এক কর্মশালা রাজস্থলীতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নওমুসলিমদের নির্যাতনের অভিযোগে রাজস্থলীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পানছড়িতে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বাঘাইছড়িতে ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কীম (EESS) এর আওতায় , সৌকেসিং প্রোগ্রাম

লামায় মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স পাহাড়

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ঘেরা জনপদ বান্দরবানের লামা উপজেলায় গড়ে উঠছে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা। একসময় দুর্গম ও অনুন্নত হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলের মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স বর্তমানে দেশীয় পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মেঘমালা, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামোর সমন্বয়ে এলাকাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিরিঞ্জা পাহাড় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। পাহাড়চূড়া থেকে দেখা যায় সবুজ পাহাড়ের সারি, মাতামুহুরী নদীর আঁকাবাঁকা প্রবাহ এবং বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য। বর্ষা ও শীত মৌসুমে পাহাড়ের চূড়াজুড়ে মেঘের আস্তরণ সৃষ্টি হওয়ায় দর্শনার্থীরা ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

পর্যটন উদ্যোক্তারা জানান, বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মিরিঞ্জা ভিউ পয়েন্টে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শীত ও বর্ষা মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।

পর্যটন করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকায় পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সেখানে ওয়াচ টাওয়ার, পর্যবেক্ষণ ডেক, বিশ্রামাগার, নিরাপদ হাঁটার পথ, দর্শনার্থীদের বসার স্থান, গাড়ি পার্কিং সুবিধা, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ মিরিঞ্জাকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিকাশে সহায়তা করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনকে কেন্দ্র করে লামা উপজেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন রিসোর্ট ও আবাসন ব্যবসা গড়ে উঠছে, রেস্তোরাঁ ও খাদ্যসেবা খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং পরিবহন খাতে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষিপণ্য ও পাহাড়ি ফলের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে ইকো-রিসোর্ট, পরিবেশবান্ধব কটেজ, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ট্রেকিং, মাউন্টেন বাইকিং, ক্যাম্পিং এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এছাড়া মার্মা, ত্রিপুরা, চাকমা ও ম্রোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, মাতামুহুরী নদীকে কেন্দ্র করে নৌভ্রমণ, ইকো-ট্যুরিজম এবং প্রকৃতি পর্যবেক্ষণভিত্তিক কার্যক্রম চালুরও সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার-চকরিয়া-লামা-আলীকদম-বান্দরবান রুটে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের অবস্থানকাল বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে পর্যটনের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে পরিবেশগত কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মিরিঞ্জার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল পর্যটন নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সমন্বিত মহাপরিকল্পনা, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ, নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থা, আধুনিক আবাসন সুবিধা, ডিজিটাল প্রচারণা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে মিরিঞ্জা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

একসময় স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ থাকা এই পাহাড় এখন পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *