
খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
“নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা। সমাজের প্রতিটি মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে একযোগে দাঁড়ালে অনেক অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই থেমে যাবে।”— এমন মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে আয়োজিত সচেতনতামূলক র্যালি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, একসময় সমাজে ছোটখাটো অন্যায়-অপরাধ ঘটলেই পাড়া-মহল্লার মানুষ দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সামাজিক উদ্যোগ ও দায়িত্ববোধ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে নারী নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল নারীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারেন। তাই কোনো অবস্থাতেই অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দিয়ে তাদের উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকার নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহমুক্ত নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুমানা আক্তার, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মিনুচিং মারমা, নারী প্রতিনিধি নমিতা চাকমাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।