সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজস্থলীতে ফ্রী ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত  খাগড়াছড়ির গুইমারায় ১৩ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন মহালছড়িতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ উদ্বোধন খাগড়াছড়িতে আলপালনি, আলপালন, এফ্লা ও বর্ষাবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত; গুণীজন সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ প্রতিহিংসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ১৫ বছরের শিশুকে মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠালেন, রামগড় থানার ওসি পানছড়িতে দলের তৃণমূলকে গতিশীল করতে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভা খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা আর্থিক সংকটে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার আট শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন…. বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস রাজস্থলীতে হেডম্যান-কারবারী সম্মেলন, স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য, অপপ্রচার বিস্তার রোধে মতবিনিময় সভা জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নের রূপরেখা: খাগড়াছড়িতে লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা বিলাইছড়িতে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ১,৪০০ গাছের চারা, জৈবসার ও খুঁটি বিতরণ বান্দরবানে মাদকবিরোধী প্রীতি ভলিবল ও ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়িতে ১৩ হাজার অধিক শিশু খেলো ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল; উদ্বোধন করলেন ইউএনও এনামুল হাসান ঈদগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে আটক ৮ ইসলামাবাদে ট্রেনের যাত্রা বিরতি চালুর আবেদন জানিয়েছেন সাংসদ কাজল

খাগড়াছড়ির গুইমারায় ১৩ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন

Reporter Name

মো. আবুল হাসেম, প্রতিনিধি: 
জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সেচ সংকট নিরসনে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার দুটি খালের খননকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপে উপজেলার তৈমাতাই ও পিলাক খালে মোট ১৩ কিলোমিটার খননকাজ শেষ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় গত ২৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খননকাজ শুরু হয়। পরে ২০ মে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।

প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, বরাদ্দকৃত অর্থে প্রাক্কলনের তুলনায় অধিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তৈমাতাই খাল: ৪.১ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা থাকলেও একই বরাদ্দে (১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা) ৬.৮ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে।

পিলাক খাল: ৫ কিলোমিটারের পরিবর্তে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬.২ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। এতে দুই খালে মোট ১৩ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পে তৈমাতাই খালে ৩৫৭ জন এবং পিলাক খালে ৪১৬ জনসহ মোট ৭৭৩ জন শ্রমিক কাজ করেছেন।

খালের দুই তীরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে তৈমাতাই খালে ২ হাজার ৬৪১টি এবং পিলাক খালে ২ হাজার ৪৫০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা খাঁচাবেষ্টনীসহ রোপণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় তৈমাতাই খালে ২১০ মিটার পাইপ ড্রেন ও দুটি ঘাটলা এবং পিলাক খালে একটি ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে পিলাক খালে ৪৫০ মিটার পিভিসি পাইপলাইন ও দুটি বক্স কালভার্টও স্থাপন করা হয়েছে।

গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি খাল খনন করা হয়েছে, যা সরকারের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহারের একটি উদাহরণ। খালগুলো পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল তামান্না বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু খাল পুনঃখনন নয়, বরং জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। গুইমারায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় স্থানীয় জনগণ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবেন। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *