
স্টাফ রিপোর্টার।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে আলপালনি, আলপালন, এফ্লা ও বর্ষাবরণ উৎসব-২০২৬। একই অনুষ্ঠানে সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুই গুণী শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুধীজন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে চাকমা সম্প্রদায়ের আলপালনি, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের আলপালন এবং মারমা সম্প্রদায়ের এফ্লা উৎসবের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, প্রকৃতিনির্ভর জীবনধারা, কৃষিকাজ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব উৎসব কেবল একটি জনগোষ্ঠীর নয়, বরং দেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রতন ত্রিপুরা ও সম্রাটসুর চাকমাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণের পর তারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও অনুপ্রেরণা জোগাবে। পাশাপাশি তারা পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গান, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এছাড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আবৃত্তি, সংগীত, রচনা ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, শিশু-কিশোর ও তরুণদের সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিমুখী করে গড়ে তোলাই এ প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য।
খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুক্তা চাকমা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অব.) সাধন কুমার চাকমা, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ইন্সট্রাক্টর রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য ও লোকজ ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যরে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে সংবর্ধিত গুণীজনরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও পার্বত্য অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।