
মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন রানা, রামগড় প্রতিনিধি।।
পার্বত্য খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে দীর্ঘদিন অনুসরণ, মোবাইল ফোনে বিরক্ত করা এবং অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গনিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে প্রায় দুই মাস ধরে মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে এক ব্যক্তি অনুসরণ করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ছাত্রীর বাবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রী ফোনটি রিসিভ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে পছন্দ করার কথা জানান এবং মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার সময় অনুসরণ করার দাবি করেন। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করলে তাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ছাত্রীর বড় ভাই ফোনে কথা বললে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রীকে বিয়ে করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে বিষয়টি বড় না করার অনুরোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্যথায় তাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ‘আপনি যা পারেন করেন’ বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষার্থী চরম মানসিক আতঙ্কে রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সে নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে। এতে তার লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জুন রামগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ফোনে হুমকি দিয়ে আসছেন।
ছাত্রীর বড় ভাই জানান, বিষয়টি তিনি রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলমকে অবহিত করলে ওসি বলেন, ‘পুলিশ কি মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার সময় নিরাপত্তা দেবে? এভাবে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।’
লিখিত অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, কলের সময় এবং অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।