
শফিক ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধি
কাপ্তাই হ্রদের চেঙ্গী নদীতে মাছের নিরাপদ প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ রিং জাল জব্দ করে আগুনে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) মহালছড়ি উপকেন্দ্র ও নৌ-পুলিশ। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সরকার ঘোষিত মাছ আহরণ নিষিদ্ধকাল চলাকালে কাপ্তাই হ্রদের চেঙ্গী নদীর বিভিন্ন এলাকায় এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মাছ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন মহালছড়ি উপকেন্দ্র ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে নদীর বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা ৩০টি নিষিদ্ধ রিং জাল উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এরফানুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে জব্দকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন মহালছড়ি উপকেন্দ্রের কর্মকর্তা মোঃ নাসরুল্লাহ আহমেদ বলেন, মাছের নিরাপদ প্রজনন, বংশবৃদ্ধি এবং কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার গত ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহণ, বিপণন ও সংরক্ষণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী ও হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু জেলে গভীর রাতে নিষিদ্ধ রিং জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত টহল ও অভিযানের অংশ হিসেবে নৌ-পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ রিং জাল জব্দ করা হয়েছে এবং তা ধ্বংস করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং নৌ-পুলিশের যৌথ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, মাছের প্রজনন মৌসুমে সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে হ্রদের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সকলকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাই।
স্থানীয়রা জানান, নিষিদ্ধ সময়ে নিয়মিত অভিযান এবং অবৈধ জাল ধ্বংসের ফলে কাপ্তাই হ্রদের মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত হবে এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।