
মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-র “স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন” (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি জেলার চারটি উপজেলার কৃষকদের মাঝে আমন মৌসুমের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায়, ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ির উদ্যোগে।
মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলার মোট ১৮ জন কৃষককে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উপকরণ প্রদান করা হয়।
প্রতিটি কৃষককে এক একর জমিতে আমন চাষের উপযোগী প্রয়োজনীয় উপকরণ—ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম ও জিংক সালফেট সার, পাশাপাশি ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক তুলে দেওয়া হয়।
এর আগেও একই প্রকল্পের আওতায় ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বন্যা-সহনশীল, উচ্চফলনশীল ও জনপ্রিয় আমন জাতের বীজ বিতরণ করেছিল।
উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ির প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সিরাজুল ইসলাম কৃষকদের উদ্দেশে সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং রোগ-পোকামাকড় দমন কৌশল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
ব্রি সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক ধানের জাত ও প্রযুক্তির প্রসারে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৭৫ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ এবং শতাধিক কৃষককে মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ব্রি ও এলএসটিডি প্রকল্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এমন সহায়তা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক ধান চাষের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং অধিকসংখ্যক কৃষক উন্নত জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন।