রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘাইছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন লামায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন “সবুজে গড়বো আগামীর বাংলাদেশ” খাগড়াছড়িতে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থানচিতে উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসব প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন খাগড়াছড়ি সদর এলজিইডি’র আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন সীমান্তে অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে পানছড়ি কেষ্টমনি পাড়ায় বিজিবি’র নতুন ক্যাম্প স্থাপন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য ঈদগাঁওবাসী ছিলেন অধির অপেক্ষায় বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে এক কর্মশালা রাজস্থলীতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নওমুসলিমদের নির্যাতনের অভিযোগে রাজস্থলীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পানছড়িতে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বাঘাইছড়িতে ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কীম (EESS) এর আওতায় , সৌকেসিং প্রোগ্রাম

ককবরক সংগীতের সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খাগড়াছড়িতে ‘চিনি রাচাপমুং’

Reporter Name

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার ।।
ককবরক গানের বিকাশ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং শিল্পীদের মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “চিনি রাচাপমুং”।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ির খাগড়াপুরস্থ জাবারাং রিসোর্স সেন্টারে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আয়োজনের মূম সমন্বয়ক ও সংস্কৃতিকর্মী পঙ্কজ ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত লেখক, গবেষক এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারী শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগীতপ্রেমীদের কাছ থেকে “বাংলাদেশের ককবরক সংগীত উন্নয়নে করণীয়” শীর্ষক একটি পরামর্শ ফরমের মাধ্যমে মতামত সংগ্রহ করা হয়। এতে ককবরক সংগীতের বর্তমান অবস্থা, তরুণদের আগ্রহ, প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে।

অংশগ্রহণকারীরা ককবরক সংগীতের উন্নয়নে আরও সাংস্কৃতিক আয়োজন, তরুণ শিল্পীদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বৃদ্ধি, ডিজিটাল সংরক্ষণ, টেলিভিশন ও রেডিওতে ককবরক অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং ত্রিপুরার শিল্পীদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিল্পীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, রেকর্ডিং সুবিধা, পরিবেশনার সুযোগ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ককবরক ভাষার গান, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে শিল্পী সমাজের মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রবীণ ও নবীন শিল্পীরা অংশ নিয়ে ককবরক সংগীতের সংরক্ষণ, প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ককবরকের উদীয়মান তরুণ কণ্ঠশিল্পী জয়েস ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে সিনিয়র শিল্পী মৌসুমী ত্রিপুরা, কনক বরন ত্রিপুরা, অনক ত্রিপুরা, চামেলী ত্রিপুরা, কিশোর ত্রিপুরা, রুবেল ত্রিপুরা ও সত্য প্রিয় রোয়াজাসহ তরুণ শিল্পী লিয়ন ত্রিপুরা, জয়েস ত্রিপুরা, অজয় সেন ত্রিপুরা এবং আরও অনেক নবীন শিল্পী অংশ নেন। এছাড়াও ককবরক (ত্রিপুরা) ব্যান্ডের নেতৃবৃন্দ গানের পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন।

পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিল্পীরা ককবরক গান পরিবেশন করেন। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

আয়োজকরা জানান, ককবরক গানের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং শিল্পীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন পঙ্কজ ত্রিপুরা, কৃপায়ন ত্রিপুরা, অর্পিতা ত্রিপুরা, জয়েস ত্রিপুরা, সপ্তম ত্রিপুরা, সত্য প্রিয় রোয়াজাসহ কয়েকজন উদীয়মান শিল্পী।

বক্তারা বলেন, ককবরক গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ বাহক। তাই নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিল্পী, সংগীতপ্রেমী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *