
কাপ্তাই প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির কাপ্তাই জেটিঘাটসংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ কচুরিপানার স্তূপে ভরে যাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত বোটসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রী ও নৌযানচালকদের পাশাপাশি মাছ ব্যবসায়ীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই অভ্যন্তরীণ নৌঘাট, বিএফডিসি প্লাটুন ঘাট ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কচুরিপানা জমে রয়েছে। ফলে মাছবাহী বোটসহ অনেক নৌযান স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। ঘাট থেকে বোট ছাড়ার সময়ও চালকদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।
বিলাইছড়িগামী কয়েকজন যাত্রী বলেন, জেটিঘাট থেকে বোট ছাড়ার পর প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ কচুরিপানায় পূর্ণ থাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।
বোটচালকেরা জানান, কচুরিপানার কারণে নৌযানের প্রপেলার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নিয়মিত মেরামতের প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয়ও হচ্ছে। স্রোতের কারণে ঘাট এলাকায় প্রতিনিয়ত নতুন করে কচুরিপানা জমা হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় সাধারণত কচুরিপানা জন্মায় না। বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর এলাকার লেক থেকে স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা কচুরিপানা জেটিঘাট এলাকায় জমা হচ্ছে। এতে মাছবাহী বোটের যাতায়াত এবং মাছ ওঠানো-নামানোর কাজে ভোগান্তি হচ্ছে।
তাঁদের ভাষ্য, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কর্ণফুলী নদীতে পানি প্রবাহিত হলে সৃষ্ট স্রোতের সঙ্গে উজান থেকে কচুরিপানা ভেসে এসে জেটিঘাট এলাকায় আটকে যায়। আগের বছরগুলোতে পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বড় ট্রলারের মাধ্যমে এসব কচুরিপানা অপসারণ করেছে। এবারও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতিবছর এ সময়ে কর্তৃপক্ষ কাপ্তাই লেক থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও উজান থেকে নতুন করে কচুরিপানা ভেসে আসায় স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী, মাছ ব্যবসায়ী ও নৌযানচালকদের দাবি, কাপ্তাই লেকভিত্তিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহনব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে নৌযান চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।